Ali Ahmad Mabrur (আলী আহমেদ মাবরুর) ফেসবুক পোস্ট থেকে:
পরিবারের সদস্য বা দলের নেতাকর্মী নয়, বেগম খালেদা জিয়ার দু:সময়ে ছায়ার মতো যে মানুষটি তাকে আগলে রেখেছিলেন তিনি হলেন তার গৃহকর্মী ফাতেমা। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহকর্মীর পরিচয় পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়ার একান্ত সঙ্গী। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, গৃহবন্দিত্বের দীর্ঘ দিন, হাসপাতালের নিঃসঙ্গ রাত কিংবা বিদেশ সফরের নীরব করিডর, সবখানেই নিঃশব্দে উপস্থিত ছিলেন ফাতেমা।
তার স্বামী কৃষক ছিলেন। ফাতেমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর তখন তার স্বামী মারা যান। তারপর তিনি বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু গরিব বাবা তার পরিবারকে চালানোর মতো সামর্থ্যবান না হওয়ায় সন্তানদের বাবার বাড়ি রেখে ফাতেমা ঢাকা চলে আসেন। পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কাজ পান খালেদা জিয়ার বাসভবনে। বাথরুমে আনা–নেওয়া, ওষুধ খাওয়ানো, শারীরিক দুর্বলতায় হাত ধরে রাখা, এসব কাজই তিনি করেছেন বছরের পর বছর।
২০১৪ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি চলাকালে গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে যখন পথ রুদ্ধ করা হয় তখন ফিরোজার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছেন খালেদা জিয়া। এসময় তার পাশে ছিলেন শুধুই ফাতেমা, যিনি বেগম জিয়ার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। (এই ছবিটিই আমি সংযুক্ত করেছি)
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো জেলখানায় যান। তখন এই ফাতেমা একটি ঐতিহাসিক কাজ করেন। তিনি বেগম জিয়ার সাথে কারাগারে থাকার ইচ্ছে পোষণ করেন। তার চাওয়ার আলোকেই আইনজীবীরা আবেদন করেন গৃহকর্মী ফাতেমা যেন বেগম জিয়ার সাথে থাকতে পারেন। আদালতের অনুমতি পেয়ে ছয় দিন পর ফাতেমা প্রবেশ করেন কারাগারে। স্বেচ্ছায় কারাবন্দী হওয়ার এরকম দৃষ্টান্ত সত্যিই নজিরবিহীন।
২০২১ সালের এপ্রিল মাস। করোনা আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। ৫৩ দিন হাসপাতালে ছিলেন তখন। যখন মানুষ প্রিয়জনের কাছেও যেতে ভয় পাচ্ছেন, তখন ফাতেমা ছিলেন অবিচল। সেবিকা হয়ে, সাহস হয়ে, ছায়া হয়ে ছিলেন খালেদা জিয়ার পাশে। সর্বশেষ লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার সময়ও তার সঙ্গে ছিলেন ফাতেমা। এমনকি এবারের চিকিৎসা চলাকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন ফাতেমা।
আপনজন না হয়েও পরের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে সেবা করা বা সম্পর্কের দায় নেয়ার যে দৃষ্টান্ত ফাতেমা স্থাপন করলেন তা সত্যিই অতুলনীয়। ফাতেমা নামের বরকতেই হয়তো তিনি মানবিক গুণাবলিতে এতটা সমৃদ্ধ হয়েছেন। কেননা শুধু অর্থের জন্য কেউ এতটা কষ্ট করে না, স্বেচ্ছায় কারাবন্দীও হয় না। আশা করি, তারেক রহমান ও জিয়া পরিবার ফাতেমার এই ত্যাগের যথাযথ মুল্যায়ন করবেন।