বড়দিনের ঠিক আগে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার বিমানবন্দরে এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর দিল্লিগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব পালন করার ঠিক আগেই সংশ্লিষ্ট পাইলটকে মদ্যপ অবস্থায় আটক করে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বিমানবন্দরের ডিউটি-ফ্রি স্টোরের এক কর্মী ওই পাইলটের কাছ থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পান অথবা তাকে মদ্যপান করতে দেখেন। ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরবর্তীতে ওই পাইলটের ব্রেথ অ্যানালাইজার পরীক্ষা করা হলে তাতে নেতিবাচক ফলাফল আসে, এরপর তাকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। এই ঘটনার জেরে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি রওনা দিতে পারেনি, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সরাসরি মদ্যপানের কথা উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, ‘ডিউটি করার উপযুক্ত শরীর-মন’ না থাকার জেরেই ওই ককপিট ক্রু মেম্বারকে নামিয়ে দেয়া হয়েছিল হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তৎক্ষণাৎ অন্য একজন পাইলটকে দিয়ে ওই বিমানটি চালানোর ব্যবস্থা করা হয়। ফলে দিল্লিগামী এআই১৮৬ বিমানে বেশ কিছুটা দেরি হয়। এয়ার ইন্ডিয়া আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিয়মভঙ্গের বিষয়ে তারা কোনো প্রকার আপস করবে না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত পাইলটকে উড়ান পরিষেবা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য সাম্প্রতিক সময়টি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভ্যাঙ্কুভারের এই ঘটনার সমসাময়িক সময়েই অন্য এক ঘটনায় ডিজিসিএ এয়ার ইন্ডিয়ার কয়েকজন ক্রু মেম্বারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দিল্লিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়মকানুন না মেনেই তারা টোকিও রুটে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়ার মতো নামী সংস্থার নিরাপত্তা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্র: এনডিটিভি
শীর্ষনিউজ