জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার চাঁদপুর, রাজধানীর বারিধারা, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ঢাকার ধামরাই ও আদাবর থানার সামনে ঘটে এসব ঘটনা। কয়েকটি স্থানে আগুনে যানবাহন ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হলেও পাওয়া যায়নি হতাহতের খবর।
চাঁদপুর সদরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে পেট্রল ও টায়ার ব্যবহার করে আগুন দেওয়া হয়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের নিচের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিন দুপুরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে পার্কিং করে রাখা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বাসটির ভেতরের অংশ, আসন ও ইঞ্জিনের কভার পুড়ে যায়। আশপাশের ভবন ও অন্য যানবাহন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানীর বারিধারার ৭ নম্বর রোডের জে ব্লক এলাকায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ।
এ ছাড়া ভোরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই থানা রোড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা পাবেল পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর আদাবর থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল হক।
তিনি জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কারা কী উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানালেন, এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। সবগুলো ঘটনাই একই সূত্রে গাঁথা। বিষয়গুলো নিয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।