Image description

ছাত্রী হলে ঢুকে পুরুষ পুলিশ কীভাবে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেত্রী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে সংঘটিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পেটুয়া বাহিনী পুলিশ কিভাবে একটি ছাত্রী হলে ঢুকে পুরুষ পুলিশ মেয়েদের গায়ে হাত দিয়ে টেনেহিঁচড়ে বের করে?'

২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে সংঘটিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০০২ সালে একটা ঘটনা ঘটেছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে। ওই সময়ে প্রভোস্টকে সরানোর যে আন্দোলন হয়েছিল, সেই আন্দোলনে তৎকালীন বিএনপি সরকার তাদের পেটুয়া বাহিনী পুলিশ এবং ছাত্রদের দিয়ে মেয়েদের হলে ঢুকে নির্যাতন করেছিল। গতকাল (বৃহস্পতিবার) তারা এই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেছে। আপনারা হয়তো ভিডিওটা দেখেছেন। যেখানে একটা মেয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অধ্যক্ষের অপসারণ চাচ্ছিল, তাকে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছে।’

পুলিশের বর্তমান ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, 'এরা জুলাইয়ের চেয়ে বেশি হিংস্র হয়ে গেছে। এবার আমরা আর বহুদিন খাইতে দিব না। এবার খাওয়ার আগেই আপনাদের জেলে যেতে হবে।'

সমাবেশে বিএনপির গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ডাকসু নেত্রী। তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতের গুম-খুন ও নির্যাতনের ঘটনা ভুলে গেছেন।

ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘বিএনপির ভাই-বোনেরা মনে হয় সবকিছু ভুলে গেছেন। গত ১৭ বছর তাদের সঙ্গে কী হয়েছিল, তারা ভুলে গেছেন। শহীদ ওয়াসিমের রক্তের কথা ভুলে গেছেন। তারা মনে হয় ভুলে গেছেন ইলিয়াস আলীর সঙ্গে কী হয়েছিল।’

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে শুক্রবার চট্টগ্রামে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে দুপুরে নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি জামালখান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। এ ছাড়া সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।