Image description

বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীন কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে হস্তান্তরের জন্য ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াত নেতা মোহাম্মদ শিশির মনির। পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভারতের আদালতে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের পর তাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির বলেন, ‘বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীন হস্তান্তরের জন্য ট্রাভেল পাসের কোন প্রয়োজন নাই। প্রথমে ভারতের আদালতে আত্মসমর্পণ/গ্রেফতার করতে হবে। ভারত সরকার বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। ট্রাভেল পাস চায় কেন?’

এর আগে পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা একজন পলাতক, ফ্ল্যাগড সন্ত্রাসী ও টেরোরিস্ট। সে কি তার শ্বশুরবাড়ি রংপুরে বেড়াতে এসেছে যে তাকে পাসপোর্ট দিতে হবে, আর পাসপোর্ট দিয়ে সে আসবে? আমাদের সঙ্গে ভারতের একটি এক্সট্রাডিশন ট্রিটি রয়েছে। সন্ত্রাসী এবং ক্রিমিনালকে ধরার জন্য এই চুক্তি। একজন টেরোরিস্ট ক্রিমিনালকে ধরতে পাসপোর্ট লাগে না, লাগে জুডিশিয়াল প্রসেস।’

তিনি বলেন, ‘পালিয়ে যাওয়া এই টেরোরিস্ট, যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে, তাকে আমরা কোনোভাবেই একজন সাধারণ কমার্শিয়াল ট্রাভেলার হিসেবে দেখতে পারি না। আমরা তার হ্যান্ডওভার চাই। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে যে এক্সট্রাডিশন ট্রিটি রয়েছে, সেই অনুযায়ী এই ক্রিমিনালকে হ্যান্ডিং ওভার করতে হবে।’