অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম বলেছেন, দেলোয়ার সাহেবকে অভিনন্দন। এক লাক ভোটে হারার পর আরেকবার নির্বাচন করার জন্য এক ধরনের মেন্টাল স্ট্রেংথ লাগে। আপনার সেটা আছে। কাজটা সহজ না। এই উঠে দাঁড়ানোর শক্তি না থাকলে বাংলাদেশে রাজনীতি করা যায় না।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে ফাহাম আব্দুস সালাম লিখেছেন, মির্জা ফয়সাল আমিন সাহেবকেও অভিনন্দন। সর্বোপরি বিএনপি সরকারকে অভিনন্দন একটা সুষ্ঠু উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য। আপনারা নির্বাচনে হারলে সামান্যতম সমস্যা নাই। কিন্তু নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ হলে সর্বনাশ হতো। এই শুভবুদ্ধি ৫ অগাস্টের বাই-প্রোডাক্ট।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশ একটা জটিল দেশ। এখানে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি - প্রত্যেকের খুব গুরুত্বপূর্ণ রোল আছে। আমাদেরকে সহাবস্থানের বন্দোবস্ত করতে হবে। এটাই সবচেয়ে দরকারী। কোনো নির্বাচন হারা মানেই কেয়ামত না। আপনারা আবারও সুযোগ পাবেন এবং সেটার জন্য কাজ করেন।
তিনি আরও লেখেন, আমার একটা আপত্তি বা প্রশ্ন আছে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক, বিশেষ করে অনলাইন এক্টিভিস্টদের প্রতি। যে কোনো নির্বাচন হলেই আপনারা হাইপ তুলেন- এইবার আর কোনো মিস নাই; খাপে খাপ মমতাইজ্জার বাপ। আর নির্বাচনে হারলেই বলেন নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। এই জোকারির কোনো মানে আছে?
ফাহাম আব্দুস সালাম লেখেন, আপনার কি বোঝেন যে, এইসব হাস্যকর কাজ করে আপনারা ফাৎনা হয়ে যাচ্ছেন? যে কোনো উপনির্বাচনে এন্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর কাজ করাটাই স্বাভাবিক। আপনাদের কথামতোন বিএনপি যদি স্মরণকালের দ্রুততম সময়ে সবচেয়ে অজনপ্রিয় সরকার হয়ে যায় - দেলোয়ার সাহেব না জিতুক - অন্তত আগের চেয়ে তো বেশি ভোট পাওয়া উচিত ছিল। উনি আগে পেয়েছেন এক লাখ বিশ - এবার পেয়েছেন ৯৪ হাজার। বিএনপি যদি এতই অজনপ্রিয় হয়ে যায় - আপনাদের ভোট কমে কীভাবে? আপনারা কি রিয়ালিটিকেও আওয়ামী লীগের মতো অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন?
তিনি লেখেন, আর নির্বাচন হারলেই যে বলেন কারচুপি হয়েছে - এতে আপনাদের কী লাভ হয়? আপনারা বোঝেন যে, সারা দেশে যারা আপনাকে হয়তো ভোট দিত কিন্তু দেয় নি - এসব কাজ দেখলে তারা আপনাদের জোকার মনে করে? ২/৩ হাজার ভোট হয়তো সূক্ষ্ণ কারচুপির মাধ্যমে আপনার অগোচরে এদিক-সেদিক করা সম্ভব। মানছি, আপনাদের কি রিয়ালি মনে হয় যে, এক লাখের বেশি ভোটের জেতাটা ম্যাসিভ ভোট রিগিং না করে কোনোদিন সম্ভব?
ভাই বাস্তবতায় ফিরে আসেন। জনগণকে কনভিন্স করেন যে আপনারা ফাৎনা না। যথেষ্ট সময় আছে।
এগেইন - গণতন্ত্রে হারজিত থাকবেই। আনন্দে পাগল হওয়ার কিছু নাই। দুঃখে সুইসাইড করারও দরকার নাই। ঠাকুরগাঁয়ের মানুষদের উপার্জন বাড়ান - ইনভেস্টমেন্ট আনেন। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।