Image description

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদরাসায় সেদিন মেয়ের সঙ্গে কী হয়েছিল, সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা।

এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি। ওই সময় দর্শকের অনুরোধে লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালে স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে বলেন তিনি।

সেদিন মাদ্রাসায় শিশুর সঙ্গে যা হয়েছিল বাড়ি ফিরে তার মাকে বলেছিল মেয়ে, সেই ঘটনায় তুলে ধরেন মা।

ফোনে শিশু মা বলেন, ‘১৯ তারিখ সোমবার আমার মেয়েকে সকাল ৮টায় মাদ্রাসায় পাঠাই। ওদের ক্লাস সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হয়। সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত স্পেশাল আরবি ক্লাস হয়, যেটা ওই স্যার নেন। ছুটি হওয়ার পর মেয়ে যখন বাসায় আসে, আমি খেয়াল করি তার মনটা খারাপ। একটু কান্না কান্না ভাব আর একটু ভয় নিয়ে আছে। আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম যে মা তুমি এরকম ভয় পেয়ে আছো কেন? কি হয়েছে আমাকে খুলে বল। আমাকে বলতে চাচ্ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আবার বলি, আমাকে একটু খুলে বলো। পরে সে বলে ‘স্যার আমাকে ব্যাড টাচ করেছে।’

‘আমি বললাম এটা কোথায় হয়েছে? তখন সে বলে, ‘সিড়িতে’।

শিশুটির মা জানান, ‘স্যার তাকে বলেছে, দেখো তুমি যদি এই কথা বাসায় গিয়ে বলো কেউ বিশ্বাস করবে না, কারণ সিঁড়িতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নেই। তোমার গার্ডিয়ানদের জানালে আমি কিন্তু তোমাকে মেরে ফেলব। তুমি এই কথা কাউকে বলতে পারবা না।’

শিশুটির মা বলেন, ‘মেয়ের কাছ থেকে এই ঘটনা জানার পর আমি মাদ্রাসার একজন ম্যাডামকে জানাই বিষয়টা। তাকে জানানোর পর তিনি আমাকে বলেন, ‘দেখেন এটা তো প্রথমবার ছিল, আমরা স্যারকে আরেকটা সুযোগ দিই। আমি মা হিসেবে ওনার এই কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি। পরে আমি সঙ্গে সঙ্গে ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন দিই। কিন্তু তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না। তিনি নাকি ছুটিতে ছিলেন। তাকে আমি ঘটনা জানাই যে আমার মেয়ের সঙ্গে এরকম হয়েছে। স্যার এরকম ব্যাড টাচ করেছে। তিনি বললেন, আমরা কালই সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দেব এবং সর্বক্ষণই একজন মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবে। যখন একজন পুরুষ শিক্ষক ক্লাস নেবেন তখন পাশাপাশি একজন মহিলা শিক্ষকও থাকবে। ওনার কথায় আমি আশ্বস্ত হয়ে ২০ তারিখে আমার মেয়েকে মাদরাসায় পাঠাই। পাঠানোর পরে সেইদিনও ওই স্যার ক্লাস করে এবং আমার মেয়েকে বলে যে তোমাকে আমার পছন্দ। তোমাদের বাসার নম্বর কত? মানে আমার মেয়ের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে বাসার নম্বর জেনে নিয়েছে।’

‘মেয়ে বাসায় আসার পর পরপরই ওই স্যার আমাদের বাসায় চলে এসেছে। আর তখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বাসায় একা ছিলাম। কোনো পুরুষ মানুষ বাসায় নেই। তিনি আমার বাসার সামনে এসে বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। বলছেন, আপনার বাসার দরজা খুলেন আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে।’

‘আমি শুধু বলেছি আপনার সঙ্গে আমি কোনো কথা বলতে পারব না বাচ্চার বাবা কথা বলবে আপনার সঙ্গে। তারপরেই আমি বাচ্চার বাবাকে জানাই ঘটনাটা। তারা সবাই আমার বাচ্চার সঙ্গে অন্যায় করেছে, এখন তারা অস্বীকার করছে।’

‘আমি আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটার প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য সুষ্ঠু বিচার চাই’— বললেন শিশুর মা।