Image description

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসেই বাংলাদেশি-পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের ৫৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে সৌদির ৪৯ নাগরিককেও চরম সাজা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়েছে, যখন দেশটিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে চারদিকে শোরগোল পড়েছে।

 

অলাভজনক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো ২০২৬ সালেও সৌদি আরব বৈশ্বিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় শীর্ষস্থানেই রয়েছে। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে গত জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে। পূর্ববর্তী যে কোনো শাসনামলের তুলনায় এটি একটি রেকর্ড।

 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ে মোট ৫৯ বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সাজার প্রায় ৫৪ শতাংশ। এর বিপরীতে সৌদি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা ছিল ৪৯, যা মোট সংখ্যার ৪৬ শতাংশ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন সৌদি আরব ছাড়াও বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিশর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা।

 

ইএসওএইচআর-এর তথ্য অনুযায়ী, মাদক সংক্রান্ত অপরাধে ৭১ জন, হত্যা মামলায় ২৫, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯ এবং অন্যান্য মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০৮টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ৮৩টি এমন অপরাধের জন্য দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল না। সাজার প্রকৃতির দিক থেকে ৮৪টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বিচারকদের একক বিবেচনামূলক ক্ষমতা বা ‘তাজির’ শাস্তির ভিত্তিতে, যা মোট সাজার ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

 

সংস্থাটি বলেছে, শৈশবে করা কথিত অপরাধের জন্য এখনও অন্তত পাঁচজন মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। জাতিসংঘের ওই ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কয়েকজনের আটকাদেশকে বেআইনি ঘোষণা করে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছিল। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের জীবন রক্ষায় বা জাতিসংঘের সুপারিশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়নি।

 

এ ছাড়া স্রেফ শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের অভিযোগে দণ্ডিত আরও ৪৯ জন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সালমান আল-আওদা ও শেখ হাসান আল-মালিকি নামের দুজনও। ২০১৮ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা তাদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে এলেও আজ পর্যন্ত বিচারপ্রক্রিয়া অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

 

ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস আরও নথিবদ্ধ করেছে, সৌদি আরবের কারাগারগুলোয় এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে খামিস মুশাইত কারাগারে ৫৮ জন ইথিওপীয়, নাজরান কারাগারে আরও পাঁচ ইথিওপীয় ও পাঁচ সোমালীয় এবং তাবুক কারাগারে আটজন মিশরীয় রয়েছেন।