Image description

দুই দেশের সীমান্ত আর কাঁটাতারের বেড়া মায়ের সঙ্গে মেয়ের দূরত্ব তৈরি করেছিল। জীবদ্দশায় মায়ের কাছে যেতে পারেননি বাংলাদেশের মেয়ে জান্নাতুল। বৃহস্পতিবার সেই মা মারা যাওয়ার পর শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো তার মুখ দেখলেন তিনি। বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় পূরণ হলো জান্নাতুলের শেষ দেখার আকাঙ্ক্ষা।

জান্নাতুলের বাড়ি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে। তার মা জায়ারা খাতুনের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার মালিয়াপোতা গ্রামে। দুই গ্রামের দূরত্ব খুব বেশি না হলেও মাঝখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থাকায় দীর্ঘদিন মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়নি জান্নাতুলের।

বৃহস্পতিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ভারতের নিজ বাড়িতে মারা যান জায়ারা খাতুন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো তার মুখ দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন জান্নাতুল। পরে বিষয়টি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে জানানো হলে তাদের সহযোগিতায় শেষ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

 

সকাল ১০টার দিকে ভারতের দিক থেকে জায়ারা খাতুনের মরদেহ মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখায় আনা হয়। সেখানে গিয়ে মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখেন জান্নাতুল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী ফিজির আলী।

ঘটনাস্থলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলাম এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ইন্সপেক্টর এস কে রায়সহ দুই দেশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।