Image description

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে আবারও সার্কিট হাউজে ফিরেছেন।

গত ১৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে টানা ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার গিয়ে তাকে ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করে।

পরে রাতেই জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে থেকে সুস্থ হয়ে শরীফুল আলম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সার্কিট হাউজে ফিরেছেন।

উপাচার্যের সঙ্গে সেদিন অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া চুয়েট কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রিয়াসাদ হাসান সুমন আগামীর সময়কে জানান, ‘উপাচার্য স্যার (শেখ শরীফুল আলম) এখন সুস্থ আছেন। বর্তমানে তিনি সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। আপাতত ক্যাম্পাস পুজোর ছুটিতে যাচ্ছে। ছুটির পর স্যার তার মতো করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এদিকে দুর্গাপূজার ছুটির আগে আজই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ কর্মদিবস। ছুটি উপলক্ষে আবাসিক হল ছাড়তে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে ক্যাম্পাস অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মদিবস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

 

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ছুটির মধ্যে আপাতত কোনো আন্দোলন কর্মসূচি থাকছে না। তবে সংকটের সমাধান না হলে তাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলমান থাকবে। ফলে ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মদিবস শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এ সময় শরীফুল আলম সার্কিট হাউজে অবস্থান নিয়েছিলেন। এর মধ্যে গত সোমবার সকালে তালা ভেঙে উপাচার্য শরীফুল আলম চুয়েটের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও ১০জন সাবেক ও বর্তমান ছাত্র ছিলেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তখন কার্যালয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।

 

 

এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের চলমান আন্দোলনকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ বা ব্যাক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে এই ধরনের ট্যাগিং করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।