কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া একটি কুকুরকে উদ্ধারে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দড়ি, বালতি ও মই দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গাড়ি পাঠানোর জন্য খরচ চান ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুলিয়ারচর পৌরসভার দোয়ারিয়া এলাকার সৈয়দ শাহানদের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত কূপে বুধবার রাতে কুকুরটি পড়ে যায়। কুকুরটি উদ্ধারে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেন তারা। দড়ি, বালতি ও মইসহ বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেও কুকুরটিকে তোলা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়। কিন্তু কিছু সময় পরও উদ্ধারকারী দল না আসায় তারা আবার যোগাযোগ করেন। তখন তাদের জানানো হয়, কর্মীরা যেতে প্রস্তুত থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর শুরু হয় অনুমতির জন্য যোগাযোগ।
ফায়ার সার্ভিনে ফোন করা স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ তুহিনের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা তাকে প্রথমে বলেন, এ ধরনের উদ্ধারকাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। পরে জানান, গাড়ি পাঠাতে হলে খরচ ও জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হবে। এ বিষয়ে কলরেকর্ডও তার সংরক্ষণে রয়েছে।
তুহিন আরও বলেন, প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে স্থানীয়রা রাজি ছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় ২৫ মিনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কূপ থেকে জীবিত অবস্থায় কুকুরটিকে উদ্ধার করা হয়।
কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আমরা ৯৯৯-এ একটি কল পাই। পরে জেলা ও বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা কূপ থেকে কুকুরটি উদ্ধার করি।’
তবে কুকুর উদ্ধারে খরচ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভুয়া কথা। অনেক সময় মানুষ সেন্টিমেন্টাল হয়ে এ ধরনের কথা বলে বিভাগের স্যারের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা কুকুরটি উদ্ধার করেছি।’
তার ভাষ্য, কুকুর-বিড়ালসহ প্রাণী উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রাণীটি হিংস্র কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথা বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এসব কাজ করি।