নেপালের উদ্দেশে যাত্রাকালে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন ও বিমান টিকিট থাকার পরও যেতে না দেওয়া ভুক্তভোগী তিন নারীকে তলব করেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। এই অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তাদের ডাকা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিন নারীর সঙ্গে স্পেশাল ব্রাঞ্চে যান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ মৌ ও ইফ্ফাত হাসান শাম্মী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা পোস্ট।
গত ৬ অক্টেবর এসবি থেকে তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে নেপালের উদ্দেশে যাত্রাকালে আপনার ভ্রমণ স্থগিত করার বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপির (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) দপ্তরে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ওই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আগামী ৮ অক্টোবর আপনার বক্তব্য ও সাক্ষ্য প্রদানের দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টায় রাজারবাগ স্পেশাল ব্রাঞ্চে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে এক রিট করেন তিন নারী। তাদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা অনুরূপ লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন ও জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুলে জানতে চান আদালত।
ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রুলসহ আদেশ দেন। বিদেশযাত্রায় বাধার প্রেক্ষাপটে রিট আবেদনকারীদের পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবরে যে অভিযোগ করেছিলেন, তা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান।
তারও আগে বিদেশযাত্রায় কেন বাধা দেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বরাবর গত ৩০ আগস্ট অভিযোগ করেন তিন নারী। লিখিত সেই অভিযোগের ফল না পেয়ে তিন নারী আদালতে রিট করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।