Image description

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় পদায়নের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেছেন, একই পরিবারের স্বামীকে এক এলাকায় এবং স্ত্রীকে অন্য প্রান্তে বদলি করা এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বড় ধরনের সমস্যা যে স্বামী এক জায়গায় আছেন, আর স্ত্রীকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে আরেক জায়গায়। এগুলো আমি মনে করি এক ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কোথায় আছে যে স্বামীকে দেবেন ভুরুঙ্গামারী আর স্ত্রীকে দেবেন নাইক্ষ্যংছড়ি?’

শিক্ষকদের বদলি নীতিতে পারিবারিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারকে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি আগেই বলেছি, সর্বাগ্রে আমাদের শিক্ষা সেক্টর বা শিক্ষা খাতকে নির্মাণ করতে হবে। এটি হাসিনার আমলে, ফ্যাসিবাদের আমলে চরমভাবে ধ্বংস ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছে। খাতায় লেখেনি, কিন্তু পাস করিয়ে দিতে হবে। হেডমাস্টারকে ধমক দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তাকে ধমক দিয়েছেন ঢাকা থেকে ডিজি সাহেব, আর ডিজি সাহেবকে ধমক দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।

একজন শিক্ষক আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষার্থী খাতায় প্রশ্নই লেখেনি, শুধু প্রশ্নটি লিখেছে। এ নিয়ে যখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তখন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘ওর ওপরেই নম্বর দাও।’

তিনি বলেন, শিক্ষা মানেই তো হচ্ছে, একটি জাতি যখন ন্যূনতম শিক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন শুধু সেই ছেলেটি বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, ভূগোল বা ইতিহাস শিখছে না; তার সঙ্গে সঙ্গে একজন শিক্ষিত মানুষ নৈতিকভাবে বলীয়ান হচ্ছে। শিক্ষা এমন একটি বিষয়, একজন শিক্ষাপ্রাপ্ত মানুষ আলোকপ্রাপ্ত মানুষ, নৈতিকভাবে বলীয়ান মানুষ। কিন্তু তখন চেষ্টা করা হয়েছে নৈতিকতার কোনো বালাই না রেখে তাকে পাস করিয়ে দিতে। আমাকে দেখাতে হবে ৯০ শতাংশ, ৯৫ শতাংশ পাসের হার। সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে কিন্তু পরিত্রাণ দিতে হবে।

আপনারা যখন দাবি করছেন, আপনাদের কাছেও আমাদের দাবি আছে। এ দেশের মানুষের দাবি আছে। আমারও ব্যক্তিগত দাবি আছে। সেই পরিত্রাণ আপনাদেরও দিতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাদের যে দাবিগুলো আগে থেকেই রয়েছে, অনেক আগে থেকে, ৩০-৪০-৫০ বছর ধরে, সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে আপনাদের অনেক দাবি পূরণ হয়েছে। আজকে আপনারা শতভাগ আপনাদের বেসিক বেতন পাচ্ছেন। এরপর অন্যান্য যে ভাতাগুলো আছে, তার হয়তো শতভাগ না হলেও কোনোটির ২০ শতাংশ, কোনোটির ৩০ শতাংশ, কোনোটির ৫০ শতাংশ এভাবে পাচ্ছেন। এরপর আপনাদের যেসব দাবি আছে, সেগুলোও পূরণ হবে বলে আমি মনে করি।

আপনারা প্রথম থেকেই চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন, তা নয়। আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে আপনাদের অনেক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। আজকে মোটামুটিভাবে একটি অবস্থানের ওপর আপনারা কিছুটা হলেও দাঁড়াতে পারছেন।