আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামিদের সঙ্গে না এনে আলাদাভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার পেছনে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহার।
তিনি দাবি করেছেন, জিয়াউল আহসানকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে। সাধারণত ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলার আসামিদের একসঙ্গে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হলেও গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জিয়াউল আহসানকে আলাদা গাড়িতে করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন নাজনীন নাহার।
তিনি বলেন, জিয়াউল আহসানকে আলাদাভাবে ট্রাইব্যুনালে আনা কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নাজনীন নাহার আরও বলেন, অন্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে করে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে আনার জন্য আবেদন করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ বিষয়ে আবেদন করেন তিনি।
এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের অসমাপ্ত জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর জিয়াউল আহসানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের একজন আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলাটিতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।