Image description

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সব ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১১টা পর্যন্ত যান্ত্রিক ত্রুটি সারানো যায়নি।

এর আগে ভোর ৫টা ৫ মিনিটে কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। আর কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। ফলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার সকাল ৬ টা ২০ মিনিটের দিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ওই ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটিতেও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ওই ইউনিটটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এই কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে দ্রুতই মেরামত কার্যক্রম শেষে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিট দুটির যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের একদল চীনা প্রকৌশলী কাজ শুরু করেছেন। তবে রাত ১১টা পর্যন্ত ত্রুটি সারানো যায়নি।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট ও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইউনিট রয়েছে। এই কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২নং ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিট ও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট থেকেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। তবে এখন এই দুটি ইউনিটও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ থেকে সকাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আর কোনও বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে না। এতে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।