Image description

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার এবং ভিসির পিএস নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হচ্ছে? মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কতিপয় লোক জোর করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। তার ব্যক্তিগত পিএস নাজমুল হোসাইনকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করা হয়। উপাচার্যকে ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। এর আগে মানববন্ধন করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়া হয় এবং তার পদত্যাগ দাবি করা হয়।’

 
 

ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও কয়েকবার অনুরূপভাবে তারা বিশৃঙ্খল আচরণ এবং হুমকি-ধমকি দিয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে এই ভীতিকর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। এ বিষয়ে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।’

 
 

জামায়াত আমির লেখেন, ‘উল্লেখ্য, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এখন বিভিন্ন পরীক্ষা চলমান রয়েছে। উপাচার্য অভিযোগ করেছেন, এতদ্‌সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারের সিপিইউ চুরি করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের মব তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীতে হাসপাতাল ভাঙচুর করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাকর্মীদের নানাভাবে নাজেহাল করা হয়েছে। ঢাকায় রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার অবৈধ দখলদারির উদ্দেশ্যে ভেঙে চুরমার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠন করা হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা পোস্টে লেখেন, ‘এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা সরকারের কাছে এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছি।’

ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের মব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হালুয়া-রুটির ভাগ-বাটোয়ারার জন্য করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলোতে উঠে এসেছে। কোনটি গভীর রাতে, কোনটি দিবালোকে। বেপরোয়া অপকর্ম আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে আরও ধ্বংস করবে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে দেবে।’