জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের কর্মী পরিচয়ে রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে ঢুকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ২০ হাজার দিয়ে মিটিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্তরা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল ইসলাম এবং ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইদ, নাইম ও শের আলী। তাদের মধ্যে নারী নিপীড়নের অভিযোগে শের আলী এবং ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠন থেকে বহিষ্কার হয়েছেন কাব্য।
বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, শের আলী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের অনুসারী। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের কর্মী।
ছাত্রদলকর্মী আলিমুল ইসলাম জানান, তাদের বন্ধু সৈকতের সঙ্গে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের ঝামেলা হয়। সৈকতের ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে লঞ্চের লোকজনের সঙ্গে সৈকত একটি কক্ষে ঢুকে গেলে ভেতর থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার শুনতে পান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লঞ্চের লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতির সময় সৈকতের মোবাইল হারিয়ে যায়। পরে ক্ষতিপূরণ চাইলে তারা কিছু টাকা দিয়েছেন। এটিকে চাঁদাবাজি বলা ঠিক হবে না।’ অভিযোগ অস্বীকার করে শের আলী বলেন, ‘আমাদের ছোট ভাই সৈকতের সঙ্গে লঞ্চের স্টাফদের ঝামেলা হয়েছিল। আমরা গিয়ে সমাধান করে দিয়েছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে সৈকত ভালো বলতে পারবে।’
জানতে চাইলে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন বলেন, ‘লঞ্চের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নিজেই ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।’
জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘বন্ধুর সঙ্গে সদরঘাটে ঝামেলা জানতে পেরে অনেক শিক্ষার্থী গেছেন। তাদের মধ্যে ছাত্রদলের দু-একজন থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। তবে ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে দায় আমরা নেব না। সদরঘাটের ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ থাকলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েক দোকানদার ও লঞ্চের কর্মচারীরা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে দুজন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে ঢোকার চেষ্টা করেন। কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাদের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই শিক্ষার্থীর একজন লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের লোকজন এসে ওই দুই শিক্ষার্থীকে মারধর এবং মোবাইল ফোন ভেঙেছে দাবি করে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে।
নাম প্রকাশ না করে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের এক কর্মী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে অনেকেই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে মাদকসেবন করেন। এজন্য জবি শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া দুজনকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা এবং পরিচয়পত্র দেখলে চাইলে, তারা বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁর দাবি, পরে লঞ্চমালিক সমিতির অফিসে দুপক্ষ বৈঠকে বসে। সেখানে আবার কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেয় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
জানতে চাইলে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। মীমাংসা হয়ে গেছে। এখানে শিক্ষার্থী পরিচয়ে ঢুকে অনেকেই মাদক সেবন করেন। এজন্য আমরা পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলাম। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য চিঠি দেওয়া হবে।’