গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘রাস্তার মেয়ে’ ও ‘বেয়াদপ মেয়ে’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির অপরাজিতা হল প্রভোস্ট রেহেনা পারভীনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ওই নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং তিনি মাস্টার্সে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত।
প্রক্টর বরাবর দেয়া অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, আমি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার আনুমানিক দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রেহেনা পারভীন আমার সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন, অপমানজনক ও অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আমাকে ‘রাস্তার মেয়ে’ এবং ‘বেয়াদপ মেয়ে’ বলে সম্বোধন করেন। এ ধরনের মন্তব্য আমার ব্যক্তিগত মর্যাদা, সম্মান ও আত্মসম্মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। উক্ত ঘটনার সময় সেখানে একজন ইলেকট্রিশিয়ান, একজন অফিস সহকারী এবং হলের আরও কয়েকজন ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন, যারা বিষয়টির প্রত্যক্ষদর্শী।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে একজন শিক্ষক/প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অশালীন ও অপমানজনক আচরণ অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশের পরিপন্থি। ঘটনাটির কারণে আমি অত্যন্ত বিব্রত, অপমানিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। বিশেষ করে একজন ছাত্রী হিসেবে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার আমার এবং আমার পরিবারের জন্যও অত্যন্ত অসম্মানজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তপূর্বক ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের অশালীন, অপমানজনক ও মর্যাদাহানিকর আচরণ না করা হয়, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য/প্রমাণ প্রদান করতে আমি প্রস্তুত আছি।