Image description

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের আমলে প্রথম উপ-নির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বুথে পোলিং এজেন্টদের বসতে না দেওয়া, ভোটারদের বাধা দেওয়া, বুথ দখল এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগের তীর মূলত বিজেপির দিকে। যদিও বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, কয়েকটি বুথে তাদের পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে বা বসতে দেওয়া হয়নি। কোথাও ভোটারদের ভয় দেখিয়ে বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি, ভোটের দায়িত্বে থাকা পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

বিজ্ঞাপন

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান অভিযোগ করেন, তার দলের পোলিং এজেন্টদের বিভিন্ন বুথে বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোনাচূড়া এলাকায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তার বচসা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সোনাচূড়া এলাকায় ভোট দিতে যাওয়া কয়েকজন ভোটারকেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

রেজিনগরেও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী পক্ষ। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ অভিযোগ করেন, প্রায় সব বুথেই ভোটে কারচুপি চলছে। তার দাবি, কিছু বুথে ভোটারদের বলা হচ্ছে, তাদের ভোট হয়ে গেছে, তাই তারা যেন বাড়ি ফিরে যান।

গোলাম নবী আজাদ অভিযোগ করে বলেন, কিছু জায়গায় ভোটারদের বুথে ঢুকতে দেওয়া হলেও তাদের হয়ে অন্য কেউ ইভিএমে ভোট দিয়ে দিচ্ছে। এরপর ওই ভোটারকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তার ভোট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটা বুথ দখল করা হচ্ছে। প্রত্যেকটা বুথের ভোটারদের বলা হচ্ছে, বাড়ি চলে যাও, ভোট হয়ে গেছে তোমাদের। তার অভিযোগ, এভাবে চলতে থাকলে গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গোলাম নবী আজাদ আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সবাইকে দল-মত নির্বিশেষে প্রতিবাদ করতে হবে। তার কথায়, কোন দল কে করছে বা কার কী রাজনৈতিক আদর্শ—তা না দেখে ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।

রেজিনগরের প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় তার দলের পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়েছে। এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলে নির্বাচনের পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই কারণেই তিনি অনেক বুথে এজেন্ট দিতে পারেননি বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রেজিনগরে ভোটগ্রহণ চলাকালীন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান ও বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ আটক করে। পুলিশ ও হুমায়ুন কবীরের মধ্যে উত্তেজনার পর তাকে আটক করা হয়। তিনি এর আগে ভোটপ্রক্রিয়ায় পুলিশের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছিলেন।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ কংগ্রেসের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিরোধী দলের অনেক জায়গায় পোলিং এজেন্টই নেই, তাই তারা এ ধরনের অভিযোগ করছে। তিনি ভোট শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলেও দাবি করেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৬০.৩২ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৫৬.৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভোটগ্রহণ ঘিরে দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী পক্ষ ইতিমধ্যেই ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে।