Image description

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা এবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মূল ফটকের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন। রংপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ কয়েকটি জেলার নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থীরা রবিবার (৪ অক্টোবর) এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

প্রার্থীদের দাবি, এখনও শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ধাপ শেষ করার পর তাদের বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা নিয়োগে আইনগত বাধা নেই, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপরও কেউ নিয়োগপত্র না পেলে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী সময়ে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

ওই দিন মন্ত্রী জানান, তখন পর্যন্ত ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। তাদের ভেরিফিকেশন, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছিল। চূড়ান্তভাবে কতজন নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন, তা যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে। যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপটু ফার্স্ট অক্টোবর পর্যন্ত আসবে। সেখানে ফাইনালি যে সংখ্যাটা হয়, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব।’ অর্থাৎ ১ অক্টোবরের পরও যাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না, তাদের বিষয়টি পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে মন্ত্রীর আশ্বাসের পর ১ অক্টোবর পার হয়ে গেলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আজ থেকে আমরণ অনশনে বসেছেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। 

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থী আব্দুলাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি এবং আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরেও আমরা কোনো এক অজানা কারণে বাদ পড়েছি। আমরা নিজেরাও জানি না।’
আমরা একবার ডিপিও অফিসে, একবার এখানে আসছি। ঘোরাঘুরি, দৌড়াদৌড়ি করছি। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একাধিকবার বলেছেন, ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তাহলে আমাদের অপরাধটা কী? আমাদের কেন এখনও বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে?’

নিজের নামে কোনো মামলা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের নামে কোনো স্পেসিফিক মামলাও নেই। জেলা শিক্ষা অফিসে প্রতিদিন যাচ্ছি। এখনও আমার বাবা সেখানে আছেন। সেখানকার কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে যাদের নামে আমাদের বলা হবে, আমরা তাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করব। আমাদের হাতে কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অধিদপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছি, প্রাথমিক জেলা শিক্ষা অফিসেও দরখাস্ত দিয়েছি। সেটার রিসিভ কপি আমার কাছে আছে। কিন্তু আমাদের আর কিছু জানানো হয়নি। আমাদেরকে স্পেসিফিক কারণ জানানো হোক কেন বাদ দেওয়া হলো।’

আরেক নিয়োগপত্র বঞ্চিত প্রার্থী বলেন, ‘২৪ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর নিয়োগপত্র ইস্যু করা হলেও আমাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও জানানো হচ্ছে না। ‘মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কাউকেই বাদ দেওয়া হবে না। তাহলে আমাদের অপরাধ কী?’

এদিকে নিয়োগপত্র বঞ্চিতদের অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, অধিদপ্তরে এসে অনশন করে তাদের লাভ হবে না। তাদের নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক মামলা ছাড়া সবাইকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। যদি মামলা না থাকে, তাহলে কাগজপত্রসহ সব প্রমাণ নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে আবারও যেতে হবে।’

নিয়োগপত্র বঞ্চিতদের জন্য পদায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘যাদের কোনো প্রকার অসুবিধা নেই, তাদের নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্যই তো পদায়নের সময় বাড়ানো হয়েছে।’