চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দুবাইভিত্তিক 'ডিপি ওয়ার্ল্ড'-সহ কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বন্দর শ্রমিকেরা। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও এনসিটি ও সিসিটি দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রক্ষা করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা সরকারের এই উদ্যোগকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ইজারা বা কনসেশন প্রক্রিয়ার বিষয়ে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সরকারকে পাঁচ দিনের সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার সন্ধ্যায় বন্দর কলোনি এলাকায় 'চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক দল' ও 'বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ'-এর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন শ্রমিক নেতারা। অনুষ্ঠানে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরের ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি অবিলম্বে এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা এবং আলোচনার টেবিল উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান।
শ্রমিক দলের নেতা নুরুল আজিম ও সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা সরকারের মুখোমুখি অবস্থানে যেতে চান না, তবে সিদ্ধান্তটি ভুল বিধায় দেশের স্বার্থেই তাঁরা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলছেন।
সরকার শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনায় না বসলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সর্বদলীয় শ্রমিক-কর্মচারী প্ল্যাটফর্মের মানববন্ধন, ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমসের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং ৭ অক্টোবর মশাল মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি ১৫ বছরের কনসেশনে পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ায় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে।