Image description

শেখ হাসিনাকে ভারতে নামার অনুমতি না দিলে অন্যরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।’

আজ শনিবার রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অতিথি যোগ দিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৫ অক্টোবর।

ভারতীয় হাইকমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, আপনারা কবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘আপনারা জানেন, এটা বলতে গেলে আমাদের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রথমত আপনাকে একটি সোজা উত্তর দিতে গেলে ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এর উত্তর দিয়েছে, এর একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে আইনি বৈধতা জড়িত এবং এটি বেশ সুগঠিত। তাই এ বিষয়ে বলতে গেলে প্রক্রিয়াটি চলছে এবং আদালত এর সাথে জড়িত।’

‘তাই কেউ আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারবে না’, যোগ করেন ভারতীয় এ কূটনীতিক।

দিনেশ ত্রিবেদী বললেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সে সময় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছিল। আমরা আশা করি, প্রার্থনা করি- এমনটা যেন আর কখনো না ঘটে, যেখানে নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। সেটি পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন।’

ভারতীয় এ কূটনীতিক বললেন, ‘সামরিক বিমানটি ভারতে এসেছিল, যার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম এবং স্ক্রলে লেখা আসছিল তিনি অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। তাই সেই সময়ে, শেখ হাসিনা তখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল।’

এ পরিস্থিতির জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না বলে জানিয়েছেন দিনেশ ত্রিবেদী। বললেন, ‘পরিস্থিতি এমন হয়, যেখানে অনেক সময় আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি যে কী দাঁড়াত তা আমার জানা নেই। সুতরাং এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ। বাকিটা আমার জানা নেই।’

‘আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ। আপনিও আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করবেন বলে আশা করি। আর আইনি ব্যবস্থা তার কাজ করছে’, যোগ করেন তিনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে হওয়া তীব্র আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এ আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে শত শত ফৌজদারি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। এরই মধ্যে মানবতাবিরোধী একটি মামলায় তাকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।