ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন দলটির সাবেক এক কর্মী ও তার অনুসারীরা। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন।
আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কাঁঠালতলা, চিত্রশাইলের মানিকগঞ্জ পাড়া ও কামরুলের মোড় এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা চালানো হয়েছে।
রবিউল ইসলাম জানান, শ্রমিক দলের সাবেক কর্মী হাবিবের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া হাবিব একসময় সাভারের ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা সুমন ভুঁইয়ার কর্মী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত একাধিক পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, আশুলিয়ার কাঁঠালতলা, চিত্রশাইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রবিউল ইসলাম ও হাবিবের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। শুক্রবার রাতে ওই এলাকায় একটি মাদকবিরোধী সভা হয়। সভাশেষে রবিউল ইসলাম ও ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি সাঈদ হাসান মিঠু সহ সাত-আটজন বাড়ি ফিরছিলেন।
এসময় হঠাৎ তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে সাঈদ হাসান মিঠুর ডান হাতে গুলি লাগে। গোলাগুলির পাশাপাশি ধারলো অস্ত্র নিয়েও হামলা চালানো হয়। এতে হামিম নামে এক যুবকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
রবিউল ইসলাম বলেন, ‘হাবিব, একরাম ও জীবন জমিদারসহ তিন-চারজন বন্দুক নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমার এলাকায় দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। একটি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। এছাড়া মানিকগঞ্জ পাড়ার বিভিন্ন জায়গায়তেও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।’
রবিউল আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে থাকার সময় তারা আমার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করত। এখন তা করতে পারছে না। এ কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে।’
এর আগেও হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সেবারও মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আমাদের ওপর হামলা হয়েছিল। তবে তখন গুলি করা হয়নি। এবারের হামলার সময় আমি বাসার ওপরের দিকে ছিলাম। গুলির ঘটনায় আমি খুবই আতঙ্কিত।’
ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইন্টারনেট ব্যবসা রয়েছে। তবে এ ব্যবসা নিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ নেই।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ১০টার পর খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রবিউল ও হাবিবের মধ্যে বিবাদ রয়েছে।’
তবে গুলির বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘গুলি চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।’
এদিকে ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন অভিযুক্ত হাবিব। এ কারণে হামলার বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।