Image description

সাতক্ষীরার দেবহাটায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রের মুখে খামারে থাকা লোকজনকে জিম্মি করে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাবার, আইপিএসের ব্যাটারি, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল পিকআপে করে নিয়ে যায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল। এতে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারের মালিকের স্বজনেরা।

 

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে দেবহাটা উপজেলার কদমখালি-শশাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় কদমখালির বাসিন্দা মো. আনছার আলী বিশ্বাস দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে ছইল উদ্দিন গাজী (৬০), আবু সুফিয়ান (৩৫), রাজু আহমেদ (৫০), আলফাজ উদ্দিন (২৭), আলেয়া বেগম (৪৫) ও মোশাররফ মোল্লা (৫০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

ভুক্তভোগীদের দাবি, রাতের আঁধারে পিকআপ নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল খামারে আসে। তাদের কয়েকজনের হাতে দা, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খামারে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাইরে বের হতে বাধা দেওয়া হয়। পরে খামারের মুরগি, খাবারসহ বিভিন্ন মালামাল পিকআপে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল রেখে ঘেরে যান। রাত আড়াইটার দিকে ফিরে এসে মোটরসাইকেলটি দেখতে পাননি। তার দাবি, ঘটনাস্থলে তখন ৪০ থেকে ৫০ জন লোক ছিল এবং তাদের কয়েকজনের হাতে দা, কুড়াল ও বন্দুক ছিল।

 

স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মী মণ্ডল জানান, রাতে তিনি বাড়ির বাইরে হৈচৈ শুনতে পান। পরে রাস্তায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্র হাতে অনেক লোককে চলাচল করতে দেখেন। তার ভাষ্য, আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

 

খামারের মালিকের ছেলে সবুজ হোসেন বলেন, খামারে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাবার, আইপিএসের ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল ছিল। এসব নিয়ে যাওয়ায় আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

 

স্থানীয় মোহাম্মদ জিয়াত আলী বিশ্বাস বলেন, রাত ৪টার দিকে তার ভাই ফোন করে জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খামারের সবকিছু নিয়ে গেছে। পরে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে আটকে রাখা হলেও পুলিশ পরে তাদের আটক না করেই চলে যায়।

 

এদিকে স্থানীয় বাবুরাম সরকার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে। তার দাবি, জমিটি তার মায়ের সম্পত্তি থেকে পাওয়া এবং পরে তিনি তা বিক্রি করেন। জমির মালিকানা নিয়ে সোহেল গাজীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

বর্তমান জমির মালিক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, তিনি জমিটি কিনেছেন এবং তার দাদু আনছার আলী বিশ্বাসকে সেখানে মুরগি পালনের জন্য লিজ দিয়েছেন। তার দাবি, জমি কেনার পর মালিকানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় এবং বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সেই বিরোধের জেরেই খামারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত সুফিয়ানের বাবা আসাফুর রহমান কোনো বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও বলেন, অপরাধ যে করবে, তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

 

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।