মৌসুমের শেষ দিকে চাঁদপুরের বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নদী ও সাগর থেকে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রেতা এ বাজারে এসেছেন। তবে মাছের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। ছুটির দিনে দাম বেড়ে এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৬০০, সাত-আটশো গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ২০০০ থেকে ২২০০ ও চার-পাঁচশো গ্রাম ওজনের বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকা দরে।
চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার জানান, চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম ছিল। গত মাসে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় ইলিশের দাম কমে প্রতি কেজি ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায় নেমেছিল। তবে গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ আবারও কমেছে। শুক্রবার বড়স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ২৫০ মণ ইলিশ এসেছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী আলম খান বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। সাগরে যাওয়া অনেক জেলে এরই মধ্যে ফিরতে শুরু করেছেন। ফলে সামনে ইলিশের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম থাকায় দাম কমারও সম্ভাবনা দেখছেন না।
চাঁদপুরের বহরিয়া এলাকার জেলে আব্দুর রহমান বলেন, চাঁদপুরের নদীতে এখন ইলিশ খুবই কম ধরা পড়ছে। কিছু দিন মাছের উপস্থিতি বাড়লেও নিষেধাজ্ঞার আগে জাল-নৌকা গুটিয়ে নিতে হচ্ছে। তবে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে নামবেন না।
একই এলাকার জেলে সারোয়ার বলেন, মাছ কম ধরা পড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। খরচ বাড়লেও সে তুলনায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ভিত্তিতে ইলিশের প্রজননের জন্য এ সময়কে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন বরফকল বন্ধ রাখা হবে এবং নদীতে কোনও ধরনের ড্রেজার মেশিন চলতে দেওয়া হবে না। চাঁদপুরের বাইরে থেকে আসা জেলেরা যাতে নদীতে মাছ ধরতে না পারেন, সেজন্য বিশেষ নজরদারি থাকবে।
এ ছাড়া অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের উদ্যোগে চেকপোস্ট বসানো হবে। অভিযান পরিচালনার সময় কোনও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত থাকবে।
