বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তাকে বাদ দিয়ে কোম্পানিটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির কমিশন সভায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্গঠিত পর্ষদ অনুমোদন করা হয়।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, পুনর্গঠিত পর্ষদে মোট সদস্য থাকছেন ৯ জন। এর মধ্যে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকের সংখ্যা তিনজন। তারা হলেন—আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমান (এ এস এফ রহমান), ওসমান কায়সার চৌধুরী ও ইকবাল আহমেদ।
এছাড়া চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারধারী হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পর্ষদে রাখা হয়েছে।
কোম্পানিটির ইতিহাসে এবারই প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য করা হয়েছে। পুনর্গঠিত পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা আগের তুলনায় বেড়েছে।
সরে দাঁড়াতে সম্মত সালমান এফ রহমান
এর আগে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষ থেকে বিএসইসিকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়, সালমান এফ রহমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন। তার সম্মতির ভিত্তিতেই তাকে বাদ দিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কোম্পানির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকেও পর্ষদ পুনর্গঠনের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার নতুন পর্ষদ অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সুনামের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়েই সালমান এফ রহমান পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে সম্মত হয়েছেন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেই বিবেচনাও এতে কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও সম্মতি
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস শুধু দেশের শেয়ারবাজারেই তালিকাভুক্ত নয়, কোম্পানিটির শেয়ার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটেও (এআইএম) লেনদেন হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কোম্পানিটির বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনায় সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছেন।
শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস দেশের ওষুধ খাতের একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। তবে মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামোর সঙ্গে সালমান এফ রহমানের সম্পৃক্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসা ও সুনাম নিয়ে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল।
তাকে বাদ দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের ফলে কোম্পানিটির পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পর্ষদে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি কোম্পানির পরিচালনায় নতুন কাঠামো তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মুনাফায় শক্ত অবস্থান
রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নানা চাপের মধ্যেও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক কার্যক্রমে মুনাফা অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৬৯৪ কোটি টাকা।
নতুন পর্ষদ গঠনের পর কোম্পানিটির পরিচালনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে এবং তা দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টদের।