Image description

যশোরের মনিরামপুরে নিজের স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ১২ দিন পর আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে পরিবারের কেউ কেউ তার মৃত্যুর পেছনে স্ত্রীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে মনিরামপুরের মধুপুর গ্রামের সাথী (২৬) নামের এক নারীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন নির্মাণশ্রমিক আব্দুল্লাহ। তাদের সংসারে ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

আব্দুল্লাহর বন্ধু সুমনের সঙ্গে সাথীর পরিচয় ছিল দীর্ঘদিনের। সুমন প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। বিষয়টি জানতে পেরে আব্দুল্লাহ স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

তবে পরে আব্দুল্লাহ নিজেই স্ত্রীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন সাথী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই বিয়ে হয়। কাবিননামায় আব্দুল্লাহ নিজেই সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন বলে জানান তিনি।

নিহতের মা রওশনারা অভিযোগ করেন, পুত্রবধূ সাথী তার ছেলেকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দিতেন। রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সাথী এসে জানান, আব্দুল্লাহ গলায় গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু পল্লিচিকিৎসক মুবাসসের আল মুবিন জানান, মৃত্যুর তিন দিন আগে আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। তখন তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছিল। বিভিন্ন নম্বরে কল দিয়ে কান্না করে ক্ষমা চাইছিলেন তিনি। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ তাকে বলেছিলেন, স্ত্রীকে নিজের উপস্থিতিতে অন্য একজনের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তিনি ভুল করেছেন। একই সঙ্গে পারিবারিক নানা চাপের কথা জানান। এ সময় আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি স্ত্রীকে অন্যত্র বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর স্ত্রী সাথীকে ঘরে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে তাকে বের করে আনা হয়।

নিহতের চাচা এনায়েত হোসেন অভিযোগ করেন, সাথী ও মালয়েশিয়া প্রবাসী সুমনের কারণে আব্দুল্লাহ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তিনি এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি মালয়েশিয়ায় থাকায় তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে তার ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন বলেন, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। আব্দুল্লাহ ও সুমনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

কালবেলা