Image description

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৭ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে এই সুবিধা নিতে পারবেন। তবে এ সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।

দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে আগামী ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে এবারের দুর্গাপূজায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির পরিধি আরও বেড়েছে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে অনুদান বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুই কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় তাদেরও তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার। এদিন মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এছাড়া ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মোট তিন দিনের সরকারি ছুটি পাওয়া যাবে।

এর আগে ১৮ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী ও ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। ফলে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ নির্ধারিত ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্গাপূজার সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতি উপভোগ করতে পারবেন।

বন্ধ থাকবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানও
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কিছু শাখা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সেবা চালু থাকতে পারে। এ ছাড়া এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত চালু থাকবে।

জরুরি সেবার কর্মীদের ছুটি নেই
সরকারি ছুটি থাকলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। জনসেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটির দিনেও কর্মীদের দায়িত্বে রাখতে পারে।

এ তালিকায় রয়েছে হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবার কর্মী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী, গ্যাস ও পানি সরবরাহের কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য জরুরি সেবার কর্মীরা।

ছুটি পাবেন না যারা
দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি থাকলেও ঐচ্ছিক ছুটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নির্ধারিত ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ পাবেন।

অন্য সরকারি চাকরিজীবীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্ধারিত সরকারি ছুটিই ভোগ করবেন। শিক্ষার্থী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটির নিয়ম আলাদা হতে পারে।

সরকারি ছুটির পাশাপাশি নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থা তাদের ছুটির সময় নির্ধারণ করতে পারে।