ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ‘ভয়ংকর অপরাধী’ আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, তাকে ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে একথা বলেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ভয়ংকর আসামি ভারতে আছেন। আমরা তাকে ফেরত চাই। এটা আমাদের দ্বিপক্ষীয় ব্যাপার এবং আমরা সে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ঢাকার পক্ষে বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে দিল্লির সাড়া মিলছে না। এরমধ্যে গত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে নিয়ে সংকট বাংলাদেশ-ভারত নিজেরা সমাধান করবে বলে তারা মনে করে।
আজ সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন এক সাংবাদিক।
এ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনিও বিষয়টি তুলেছেন।
‘যার সঙ্গেই দেখা করছি, বাংলাদেশের অস্বস্তির জায়গাটা ভারতকে জানাচ্ছি। আমি আশা করি, তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অপরাধের মাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিনি শুধু খুন করেননি, উনি যেটা করেছেন, এটাকে ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি বলে। এটা একটা আলাদা মাত্রার অপরাধ।
‘আমরা তাকে চাইছি এবং ভারতকে এটা হস্তান্তর করতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির প্রভাব ‘পড়বে না’ রূপপুরে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করলেও তার প্রভাব রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
এ নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি এমন কোনো প্রভাবের আশঙ্কা করছেন না।
ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশকে বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখতে হবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ তার স্বার্থে যেখানে যেখানে প্রয়োজন, যার সঙ্গে প্রয়োজন এনগেজমেন্ট করবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের টানাপড়েনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংকট থাকলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ভারত, রাশিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক ও যোগাযোগ বজায় রাখবে।
রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম পরিবহনের একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল কি না—এমন প্রশ্নও করা হয় উপদেষ্টাকে।
জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে, যোগ করেন তিনি।