রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে আজ শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ সদস্যদের অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তুপ পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, 'ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে এ হামলা মাত্র ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টার মধ্যে চালানো সম্ভব নয়। পরিদর্শনে যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে বেশ সময় নিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।'
'বিভিন্ন স্থানে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে এবং দুই পাশের টিনের চালের অবকাঠামোগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,' বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রাউটার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।
বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সন্দেহভাজনদের অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।
হামলা ও লুটপাটের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, জানতে চাইলে কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। যাদের সঙ্গেই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।'
'অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় পুলিশ বিবেচনা করবে না,' যোগ করেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, 'আমরা কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শ দেখব না। আমাদের দেখব অপরাধী কে। অবৈধ দখলসহ যেকোনো বেআইনি কাজে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।'
দারুস সালাম থানা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এমন হামলার ঘটনায় পুলিশের অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের অংশ। পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন কি না এবং তাদের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে।'
তিনি জানান, দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের কমিটিকে আজ শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ভোররাতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুসারে, মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র হাতে দুই শতাধিক মানুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রথমেই দুজন নিরাপত্তারক্ষীকে জিম্মি করে।
হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে মূল্যবান সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থ ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চত্বরে একটি স্থায়ী ভবন ও তিনটি আধা-পাকা স্থাপনা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
‘ভাঙচুর ও লুটপাটে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে,’ বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার।
এ ঘটনায় তিনি শাহ আলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।