Image description

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র পাননি জুলাই আন্দোলনে কুড়িগ্রামের রৌমারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সাদ্দাম হোসেন। পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে জুলাই আন্দোলনে বক্তৃতা দেওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘চাকরির পরীক্ষায় পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে আমাকেও বাদ দিয়েছে। মজা পাইলাম অনেক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ছেলেটি আমি। জুলাই আগস্ট বিপ্লবে আমি কি করেছি পুরো রৌমারী জানেন। বাঁচবো এটা ভুলেও ভাবিনি আমি. ধরেই নিয়েছিলাম আমাকে মেরে ফেলবে।’

সাদ্দাম বলেন, ‘সরকার পতনের পরেই পড়ালেখা শুরু করি। চাইলে রাজনীতি করতে পারতাম। কয়েকটা চাকরির ভাইভায় ডাক পাই। সব ভাইভা দেইনা আমি। এলাকায় থাকার ইচ্ছা ছিলো, তাই প্রাইমারিতে চাকরি হলে অন্য কিছু তেমন ভাবিনি।’

পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে পুলিশ ভ্যারিফিকেশনে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যারা ভ্যারিফিকেশন করেছে সেইসব প্রশাসনের ভাইয়েরাও আমার পূর্ব পরিচিত ছিলো। তারপরও এমন ঘটনা!’

ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সাদ্দাম বলেন, ‘ভাবছিলাম একটা বার বিসিএস এর জন্য পড়বো, বয়স নেই তেমন। আরো কি পড়ালেখা করা উচিত হবে বলে মনে করেন?’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘চাকরি করার ইচ্ছে মরে গেলো ... আমি শুধু ভাবতেছি, আমি সাদ্দাম যদি আন্দোলন না করতাম, আমার মতো ছেলেরা যদি মরার জন্য বের না হত এই সরকার কি ক্ষমতায় আসতে পারতো?’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শত শত প্রার্থী। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেকের নাম নিয়োগের তালিকায় না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন তারা।

‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, ১৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে প্রায় ১২ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। গত আট মাস ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এটি।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন নির্বাচিত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলে একদিকে অনেকের অপেক্ষার অবসান হয়, অন্যদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।