Image description

নওগাঁর পোরশায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে নুরুজ্জামান নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের মূলুকডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। 

জানা যায়, বিদ্যালয়ের কৃষি শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুজ্জামান নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়াতেন। অন্যান্য দিনের মতো গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিদ্যালয়ের নবম এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করেন। এ ঘটনাটি অন্য শিক্ষার্থীরা দেখে এবং বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষককে জানান। 

ঘটনাটি জানাজানি হলে গত রোববার থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুজ্জামান বিদ্যালয়ে আর যাননি। এ ঘটনা জানার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আজ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সময় প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুজ্জামান বলেন, আমি প্রথমে প্রাইভেট পড়াতে চাইনি। প্রধান শিক্ষক ও আমার সহকর্মীদের অনুরোধে আমি প্রাইভেট পড়াই। হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে। এরপর আমি গত রোববারে বিদ্যালয়ে গেলে আমাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেননি এবং আমাকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে নিতে চায়। এরপর থেকে আমি আর বিদ্যালয়ে যাইনি। পরে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করি। 

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আমি শিক্ষার্থীদের কাছে জেনে ব্যক্তিগত ভাবে বিষয়টি যাচাই করি। এতে আমার কাছে ঘটনাটি সত্য মনে হয়েছে। এ ঘটনা জানার পর গত রোববার থেকে ওই শিক্ষক আর বিদ্যালয়ে আসেননি। এ বিষয়ে আইনিগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।