Image description

চট্টগ্রামের পটিয়ায় হিন্দু তরুণ পার্থ বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডকে পুরোনো ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক বার্তায় জানায়, প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও তথ্য ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পটিয়ায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার। ওই ঘটনায় পার্থ বিশ্বাস পিন্টু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকে পিটিয়ে হত্যার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জেলা পুলিশ জানায়, ‘চট্টগ্রামের পটিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু তরুণকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড ও পোস্ট বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, পার্থ বিশ্বাস নামে এক হিন্দু তরুণকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মারধর করে হত্যা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রচারিত ফটোকার্ডের তথ্য সঠিক নয়।

 
 

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পার্থ বিশ্বাস পিন্টু নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা থানার সামনে জড়ো হন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ওই সময় থানা ঘেরাও, আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সেনাবাহিনীর গাড়িতে ভাঙচুর এবং সাময়িকভাবে সড়ক অবরোধের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে পার্থ বিশ্বাস পিন্টুকে মারধর করে হত্যার কোনো তথ্য নেই। এসব প্রতিবেদনে তার গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

 

জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনার ছবি ও তথ্যকে বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে এর সঙ্গে ‘পিটিয়ে হত্যা’র মিথ্যা দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপতথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পুরোনো ছবি, সংবাদ বা ভিডিওর সঙ্গে নতুন ও মনগড়া তথ্য যুক্ত করে প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে তথ্যের উৎস, প্রকাশের তারিখ ও প্রেক্ষাপট যাচাই করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে জেলা পুলিশ।