নরসিংদীতে বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া সেই তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত তানভীর আহমেদ রাব্বি নরসিংদী পৌর শহরের বেপারিপাড়ার মনির মিয়ার ছেলে। তিনি ওই দেশীয় মদের দোকানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ ঘটনার প্রধান আসামি নিরালা আবাসিক হোটেলের মালিক জাহাঙ্গীর সরকারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুর এলাকার বজলুল হক সরকারের ছেলে জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) ও কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাব্বি পৌর শহরের বাজিরমোড় এলাকায় লাইব্রেরি পট্টি এলাকার একটি লাইসেন্স করা দেশীয় মদের দোকানে কাজ করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে জাহাঙ্গীর সরকার মদের দোকানে এসে রাব্বির কাছে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করে। রাব্বি অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর সরকার তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং জোরপূর্বক ১০ লিটার মদ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
এ ঘটনার জেরে কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকার কয়েকজন লোক নিয়ে দোকানের কাউন্টারের সামনে এসে রাব্বিকে খুঁজে বের করে। এরপর সঙ্গে আনা পেট্রোল রাব্বির শরীরে ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালায়। আগুনে এ সময় রাব্বির শরীর ঝলসে যায়।
আরও জানা যায়, তাৎক্ষণিকভাবে দোকানে থাকা অন্য কর্মচারীরা পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লান্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাব্বি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাব্বি মারা যায়।
নিহতের বাবা মনির মিয়া বলেন, আমার ছেলে হাসপাতালে অনেক কষ্ট সহ্য পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। এখন পরিবারের হাল ধরার কেউ নেই। নাতনিসহ কীভাবে সংসার চালাবো। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিকুর রহমান জানান, নিহতের মা মিনু বেগম বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নামে মামলা করার পরেই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ। মঙ্গলবার ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে শহরের বানিয়াচল বালুরমাঠ এলাকা থেকে প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করে। আর মূল অভিযুক্ত পলাতক জাহিদ সরকারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।