সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর মামা ওবায়দুর রহমান গ্রেপ্তার হয়েছেন। একসময় তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের ইলিয়াস সরদারের ছেলে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কালশীর রোজ গার্ডেন টাওয়ারে ওবায়দুরের বোনের বাসায় গাজী নজরুলের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রেই এমপির সঙ্গে ওবায়দুরের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওবায়দুরের কারাগারে যাওয়ার ঘটনা শ্যামনগরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের পরিবারের আগে থেকেই আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। এমপির প্রথম স্ত্রী এবং মরিয়মের দাদি ছিলেন আপন দুই বোন। এই পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরেই মরিয়মের মামা ওবায়দুর এমপি নজরুলের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। আর ওবায়দুরের মাধ্যমেই এমপির সঙ্গে মরিয়মের পরিচয়, যোগাযোগ এবং বিয়ে হয়।
মরিয়মের চাচি মুন্নি খাতুন বলেন, ‘ওবায়দুর একদিকে মরিয়মের আপন মামা, অন্যদিকে গাজী নজরুলের ঘনিষ্ঠ সহকারী। দুই পক্ষের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে তোলায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।’
মেয়ের মরদেহ দাফনের পরদিন চৌদ্দরশি গ্রামে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ওবায়দুরই আমার মেয়ের জীবনটা শেষ করে দিল। আমার পরিবার তছনছ করে দিল। ওর কঠিন শাস্তি হোক।’
তিনি অভিযোগ করেন, পরিবার ও মরিয়মের আস্থার সুযোগ নিয়ে ওবায়দুর তাঁর মেয়েকে নিয়ে খেলেছেন এবং এই সম্পর্কের মূল কারিগর ছিলেন তিনিই।
মাসুম বিল্লাহ আরও দাবি করেন, ‘তাকে শুধু গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে রাখলে হবে না, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।’
গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। জুলাইয়ে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের বিরোধ তৈরি হয়। গাজী নজরুলের চাচা আব্দুস সোবহান জানান, গত ২১ জুলাই ওবায়দুর রহমান নিজেই এমপি গাজী নজরুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন।
আব্দুস সোবহানের দাবি, ওবায়দুরসহ একটি চক্র ওই ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিল।
এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ওবায়দুরকে ২৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ‘ওবায়দুর এক সময় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গাজী নজরুল এমপি হওয়ার পর এলাকায় ওবায়দুরের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ে।’
অন্যদিকে চৌদ্দরশি গ্রামের বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বাদশা বলেন, ‘ওবায়দুরের গ্রেপ্তারের পর বড় প্রশ্ন হলো, সে কি সত্যিই ভাগ্নিকে এমপির কাছে নিয়ে গিয়েছিল, নাকি সম্পর্ক তৈরির পর জড়িয়ে পড়েছিল? ভিডিও ছড়ানো ও মরিয়মের মৃত্যুর পেছনে তার কী ভূমিকা ছিল?’