চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতি। দাবি মানা না হলে আগামী রবিবার থেকে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এসব কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির নেতারাও উপস্থিত থেকে এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। একই দাবিতে সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে চ্যান্সেলর বরাবর যোগদান পত্র পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি এখনো চুয়েটে সশরীরের গিয়ে কার্যালয়ে বসতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেছেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আকস্মিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ২১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করে দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়। চলমান অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তা পুষিয়ে দেওয়া হবে বলে শিক্ষকরা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়। শিক্ষকরা স্পষ্ট করেন, উপাচার্যকে পুনর্বহালের এই আন্দোলন শিক্ষকদের কোনো একাংশের নয়, বরং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েটের শিক্ষকদের মতবিনিময় বা বৈঠকের যে খবর প্রচার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।
শিক্ষকরা জানান, প্রকৃতপক্ষে কোনো শিক্ষক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি এবং তাকে ক্যাম্পাসে গ্রহণ করার কোনো পরিস্থিতি নেই।
সমিতির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো উপাচার্যকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নজিরবিহীন। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, সচিব এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতেরও সময় চাওয়া হয়েছে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের যৌক্তিক সমাধান করবে বলে চুয়েট পরিবার আশা করছে।