Image description

উত্তর সিকিমে রাতের অন্ধকারে পাহাড়ের বড় অংশ ধসে পড়ায় তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর জলপ্রবাহে সাময়িক বাধা তৈরি হয়েছে। শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে মঙ্গন জেলার চুংথাং মহকুমার নাগা জঙ্গল এলাকায় এই ধস নামে। প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন করে রাস্তা তৈরির জন্য পাহাড় কাটার অংশই ধসে পড়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত হতাহত বা আহতের খবর নেই। তবে নদীর গতিপথে মাটি-পাথর জমে যাওয়ায় সতর্ক প্রশাসন।

মঙ্গন জেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে, থেং টানেলের ঠিক উলটো দিকে নাগা তোসা সড়কের নতুন রাস্তা কাটার অংশে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। জায়গাটি তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলের কাছেই। ধসের ধাক্কায় দু’টি নদীর প্রবাহ আংশিক ভাবে আটকে যায়। কিছু সময়ের জন্য তিস্তাতেও বাধা তৈরি হয়েছিল। পরে নদীর জল আবার স্বাভাবিক গতিতে বইতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে দুই নদীতেই জল জমেছে এবং জল ঘোলা হয়ে গিয়েছে।
এখনই বড় বিপদের আশঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছে সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ। তবু নিচের দিকের এলাকাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ ধসের জেরে নদীতে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাধা আচমকা ভেঙে গেলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসার আশঙ্কা থাকে।

সেই পরিস্থিতিতে তিস্তার নিম্ন অববাহিকার এলাকাগুলিতে জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে। পুলিশ কন্ট্রোল রুমকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।

সঙ্কলং ও ফিডাংয়ের পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে আপাতত জলস্তর স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জল ঘোলা হওয়ায় পরিস্থিতির উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চুংথাং পুলিশ এবং থেং পুলিশকেন্দ্রের কর্মীরা ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। মঙ্গন জেলা প্রশাসনও ধসের জায়গা এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী গোটা অঞ্চলে নিয়মিত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক, মৎস্যজীবী ও গাড়িচালকদের নদীর ধার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আপাতত তিস্তা ও চিয়াকুংয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে না যাওয়ার পাশাপাশি নদীর উপর ঝুলন্ত বা পথচারী সেতু ব্যবহার না করতেও সতর্ক করা হয়েছে। এর মধ্যেই আবহাওয়া দফতর ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর সিকিমে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। ফলে ধসের পর পাহাড় ও নদী দুই দিকেই নজর রাখছে প্রশাসন।