Image description

কুষ্টিয়ার খোকসায় একটি কবরস্থানের জমিতে করা মসজিদের নামকরণ ও কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই দল গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা সদরের মাঠপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, খোকসা থানা পুলিশের একটি দলের উপস্থিতিতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা সদরের মাঠপাড়া গ্রামে অর্ধশত বছরের আগে ওয়াকফ করা প্রায় দুই একর জমিতে যামিনী-কামিনী কবরস্থান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আয়ের টাকায় কেনা জমিতে প্রায় ২০ বছর আগে জামিনী-কামিনী কবরস্থান মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিগত সরকারের আমলে মসজিদের নামকরণ করা হয় ‌‘কুদ্দুসিয়া জামে সমজিদ’।

সম্প্রতি মসজিদের মুসল্লিদের গঠন করা কমিটি মসজিদটিকে ‘মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ নামে নামকরণ করে। এই নামকরণ নিয়ে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিলুপ্ত কমিটির লোকেরা মসজিদের প্রধান গেটে কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদের নামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

 

এ নিয়ে গত দুই জুমার নামাজের পর সাবেক কমিটির লোকদের সঙ্গে নতুন কমিটির লোকদের বিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এর রেশ ধরে শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি বসতবাড়ি। এসময় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। আহত হন অন্তত তিনজন।

স্থানীয় আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সাবেক কমিটির নেতারা মসজিদকে পুঁজি করে বিভিন্ন দপ্তর থেকে কয়েক লাখ টাকা সাহায্য নিয়ে আত্মসাত করেছেন। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরেও তারা হিসাব দেননি। হঠাৎ করে তারা পেশিশক্তির বলে মসজিদের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসী ও নামাজিরা এটিকে মাঠপাড়া জামে মসজিদ নাম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই নাম ঠিক রাখা কমিটির নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মসজিদের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তার জানা নেই। হঠাৎ করে দেখেন মসজিদের নাম ‘খোকসা মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

বিজ্ঞাপন

আবুল কালাম সুমন নামের আরেকজন বলেন, তার দাদি যামিনী ও কামিনী বিবির ওয়াকফ করা জমিতে কবরস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়। সে কবরস্থানের আয়ের টাকায় খরিদ করা জমিতে মসজিদটি করা হয়েছে। নামকরণ নিয়ে পৃথক দুই পক্ষ মারামারি করছে। মসজিদটির নাম করা উচিত ‘যামিনী-কামিনী কবরস্থান জামে মসজিদ’।

এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি গোলাম ছরোয়ার বলেন, মসজিদের মুসল্লিদের সিদ্ধান্তে মসজিদের নাম পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু সাবেক কমিটির লোকেরা তাদের না জানিয়ে কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, মসজিদের কর্তৃত্ব নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন আছে।