Image description

কক্সবাজারের টেকনাফের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুতুপালং ক্যাম্পে যাওয়া দুই রোহিঙ্গা কিশোরীকে উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার পর তাদের এপিবিএনের হেফাজতে নেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরী হলো- ক্যাম্প-২২ উনচিপ্রাংয়ের সি/১ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ নুরের মেয়ে ইয়াছমিন আকতার (১৭) এবং একই ব্লকের ফরিদ আলমের মেয়ে ফরমিন আরা (১৬)।

এপিবিএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইয়াছমিনের বাবা মোহাম্মদ নুর উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পে এসে মৌখিক অভিযোগ করেন তার মেয়েসহ একই ব্লকের ফরমিন আরাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কে বা কারা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে গেছে।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অনুসন্ধানে নামে উনচিপ্রাং এপিবিএন। ক্যাম্পের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দা জাফর আলমের (৫২) বাড়িতে যান। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাফর আলমের মেয়ে তসমিন আরা (১৮) এবং ইয়াছমিন আকতার ও ফরমিন আরা একসঙ্গে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুতুপালং ক্যাম্পে গেছেন। বিষয়টি জানার পর জাফর আলমের মাধ্যমে তাদের ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তসমিন আরা এবং দুই কিশোরী উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পে ফিরে আসেন।

পরে এপিবিএনের জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোরী দাবি করে, তারা নিজেরাই স্বেচ্ছায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তসমিন আরাকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্প-২২ উনচিপ্রাং থেকে কুতুপালং ক্যাম্পে গিয়েছিল। তবে তাদের ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. কাউছার সিকদার।

তিনি বলেছেন, ঘটনাটি উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান করে প্রকৃতপক্ষে কেউ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।