Image description

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ছুরিকাঘাতের আগে ‘ডিসেম্বরে আপা আইতাছে, তার আগেই তোরে মাইরা ফেলমু’—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে তাকে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহম্মদ নামে একজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আহত জসীম উদ্দিন ফতুল্লার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি। তিনি কায়েমপুর মাদবর বাড়ির আব্দুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী জসীম উদ্দীনের অভিযোগ, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুলের সহযোগী শাহাদাৎ ও তার সঙ্গীরা সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় জামিনে মুক্তি পান। বৃহস্পতিবার রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা জসীমের পথরোধ করে বিভিন্ন মামলায় তাদের আসামি করানোর অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে।

এক পর্যায়ে শাহাদাৎ তাকে উদ্দেশ করে বলেন, এমপি আল আমিন ও জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। পরে তাকে ‘ডিসেম্বরে দেশে নেত্রী আসবো, তার আগেই তোরে মাইরা ফেলব’ এই কথা বলে সুইচগিয়ার ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার মাথায় ও শরীরে আঘাত করে। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অভিযুক্তরা পুনরায় তার ওপর হামলা চালায় বলে জসীম উদ্দীন জানান।

হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। জসীম আমাদের একজন জামায়াতকর্মী। পাশাপাশি তিনি যুবকদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তার তৎপরতার কারণেই হামলা করা হয়েছে বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহম্মদ নামে একজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।