Image description

কক্সবাজারে অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ছয়জন চীনা নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৩০ থেকে ৪০টির মতো ল্যাপটপ এবং বিদেশি পুলিশের ব্যবহৃত যোগাযোগ সরঞ্জামের মতো কিছু ডিভাইস জব্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কক্সবাজার শহরের হোটেল সি-প্যালেসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) অহিদুর রহমান এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ জানায়, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হোটেলটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছয় চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আইফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

 
 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

 

তবে মামলার নম্বর, আসামিদের নাম ও তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা। এসব বিষয়ে জানতে রামু থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আনোয়ারুল হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপ কুমার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, কক্সবাজারে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও অনেক বিদেশি নাগরিক জড়িত থাকতে পারেন।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানি নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের দুটি হোটেল ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তাদের আটক করতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হোটেল সি-প্যালেস কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৬ আগস্ট চীনা নাগরিকদের একটি দল হোটেলটিতে ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের অভিযানের সময় তাদের কয়েকজনকে আটক করা হয়।

তারা কী উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এসেছিলেন এবং হোটেলে অবস্থান করে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ।