‘রহমত উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধনের কিছু বিষয় সংশোধন করতে দেড় মাসের বেশি সময় ঘুরে সফল হয়েছেন। কারণ এক শাখা থেকে অন্য শাখায় চিঠি চালাচালি আর প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখে সিদ্ধান্ত আসতে সময় চলে গেছে।
আরো অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, বিআরটিএ অফিসগুলোতে আটকে আছে কয়েক লাখ লাইসেন্স। এই লাইসেন্স প্লাস্টিক কার্ডে না দিয়ে ই-পেপার দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে কলমে ডিজিটাল সেবার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষকে এখনো সরকারি দপ্তরে নানা কাজের জন্য ফাইল চালাচালির চক্করে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
গত কয়েকটি কর্মদিবসে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে দেখা গেছে, তথ্য পেতে বা কাজের জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে নাগরিক সেবায় নানা বিড়ম্বনা। অনেক মন্ত্রণালয়েও দেখা গেছে কর্মকর্তার টেবিলে ফাইলের স্তূপ। সব ধরনের কাগপত্র জমা দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক মানুষের।
বিশেষ করে দাপ্তরিক প্রয়োজনের সিদ্ধান্তের জন্য অধিদপ্তর বা অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানের চিঠি মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় ফেরত আসতে লেগে যাচ্ছে সপ্তাহ, কখনো মাস বা তারও বেশিও সময়। অথচ রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, ফাইল দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
দেখা গেছে, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ই-ফাইলিং, স্মার্ট অফিস ও নির্দিষ্ট সময়সীমায় ফাইল নিষ্পত্তির মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে বহু সরকারি দপ্তরে এখনো ফাইল মাসের পর মাস টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরছে। এতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। ব্যয় বাড়ছে। সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মানুষ। এসব কারণে পরিকল্পনা কমিশনে জমা হয়েছে অসংখ্য প্রকল্পের নথী। কমিশনের প্রতিটি শাখায় ডিপিপি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সহ নানা কাজগপত্র দেখা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, খাদ্য, কৃষি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেখা গেছে অনেক কর্মকর্তার কক্ষেই নানা নথিপত্র জমে থাকতে।
নতুন সরকার গঠনের পর লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং ফাইলের জটলা কমছে বা বাড়ছে কি না- এ প্রশ্নে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর গত ছয় মাসে অফিসগুলো এখন ফাংশন করছে। এ সরকারকে একটা ভাঙাচোর প্রশাসন নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। তবে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য নেই। আমরা দ্রুত সেবা দিচ্ছি। জন ভোগান্তি কমাতে কাজ করছি।’
এদিকে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এখনো অনেক মন্ত্রণালয়ে ফাইল অনলাইনে হচ্ছে না। অনলাইনের চেয়ে হার্ড কপিতেই হয়। কারণ ডি নথিতে কোনো ফাইল কোন স্তরে বা কার কাছে আটকে আছে- তা সংশ্লিষ্ট সবাই দেখতে পায়। একজন সচিব দেশের বাইরে থাকলেও ডি নথিতে ফাইল অনুমোদন বা নিষ্পত্তি করতে পারেন। তবে হার্ড ফাইলে সেটি সম্ভব হয় না।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন