সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন ও দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের দাবি, স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী কোনো ধরনের শর্তারোপ ছাড়াই তাদের প্রত্যাশিতসংখ্যক সভাপতির পদ দিতে হবে। অন্যথায় তারা ওয়াকআউটের হুমকি দিয়েছে। অপরদিকে সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলেই কেবল তাদের দাবি বিবেচনা করা হবে। না হলে কার্যপ্রণালি বিধি ও রেওয়াজ অনুযায়ী তাদের সাধারণ সদস্য রেখেই কমিটি গঠন সম্পন্ন হবে।
দুই দলের এই দ্বিমুখী অবস্থানের মাঝেই সংসদ ও মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত কমিটি গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। চলতি অধিবেশনেই সবকটি কমিটি চূড়ান্ত করা হবে।
সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক দায়িত্বশীল সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিশেষ করে মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত কমিটিগুলো গঠনে বিরোধী দলকে আনুপাতিক হারে সভাপতি পদ দেওয়ার বিষয়ে দুপক্ষের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা হয়েছিল। কোন কোন মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছিল। এমনকি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কে কোন কমিটির সভাপতি হবেন, সে তালিকাও সরকারি দলকে সরবরাহ করা হয়েছিল।
তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনসম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে নাম না দেওয়ায় সরকারি দলের অবস্থানে পরিবর্তন ঘটে। ওই কমিটিতে না এলে বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে দুদলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়। দুদলের শীর্ষপর্যায়ের সঙ্গেও দীর্ঘ বৈঠক হয়। তবে কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট সংসদের বৈঠকের আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়। ওই আলোচনাকে ইতিবাচক ধরে নিয়ে ওই দিনই সংসদের বৈঠকে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরুর আগে চিফ হুইপ বিরোধীদলীয় উপনেতাকে ফ্লোর দিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন। চিফ হুইপ আশা করছিলেন, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিরোধী দল সংসদকে ইতিবাচক আশ্বাস দেবে। তবে ডা. তাহের ফ্লোর নিয়ে কেবল তাদের সভাপতি পদ দাবি করেন। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না বলে তাদের অবস্থানের কথা পুর্নব্যক্ত করেন। এর জেরে সেদিন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বাহাসের প্রেক্ষাপটে গঠন কার্যক্রম স্থগিত হয়।
বিরোধী দলের কাউকে সভাপতি না করে গত বুধবার মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত ১০টি কমিটি গঠন করা হয়। সভাপতি করা না করা ইস্যুতে ওই দিনও সংসদের বৈঠকে দুদলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। ভবিষ্যতে এভাবে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হলে বিরোধী দল তা বর্জনের ইঙ্গিত দেয়। পরে তারা ঘোষণা না দিয়েই সংসদ থেকে বের হয়ে যায়।
এর আগে দ্বিতীয় অধিবেশনে মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত ৯টি কমিটি গঠন হলে সেখানেও বিরোধী দলের কাউকে সভাপতি করা হয়নি। অবশ্য সভাপতি করা না হলেও সবগুলো কমিটিতে গড়ে বিরোধী দলের দুই-তিনজন করে সদস্য করা হয়েছে।
এদিকে, বিরোধী দল থেকে সভাপতি না করে বুধবার ১০টি কমিটি গঠন শেষ হলে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পয়েন্ট অব অর্ডারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সংসদের প্রতিনিধিত্বে আনুপাতিক হারে তাদের ২৬ শতাংশ সভাপতি পদ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সভাপতি কোন দল থেকে কতজন হবে এবং কী অনুপাতে হবে, এ ব্যাপারে কার্যপ্রণালি বিধিতে কোনো উল্লেখ নেই। সরকারি দলের পক্ষ থেকে তাদের ১০টি সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলাও হয়েছিল। সে অনুযায়ী তালিকা নিয়েছে। সরকারি দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের নাম দেওয়ার শর্তের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. তাহের বলেন, সভাপতির পদ তাদের অধিকার। সরকার এ অধিকার ইগনোর করছে। এটা খুবই ইনডিসেন্ট, সরকারি দল থেকে যখন বলা হয়—আপনারা এই কমিটিতে এলে আপনাদের এটা দেব।
ভবিষ্যতে এভাবে কমিটি গঠন হলে সে প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল না-ও থাকতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এর পরে কমিটি গঠনের ব্যাপারে একই নীতিমালা অনুসরণ করা হলে তাদের কথা শোনার জন্য এই সংসদে আমরা না-ও থাকতে পারি।
ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের সদস্যদের আসনের অনুপাতিক হারে সভাপতি দেওয়া যাবে না, এটা কোথাও নেই আবার বাধ্যবাধকতাও নেই। অতীতের ইতিহাসেও নেই। বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতি দেওয়ার বিষয়ে আানুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে কমিটি পুনর্গঠন করে বিরোধী দল আনুপাতিক হারে সভাপতি পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
৩০ আগস্টও বিষয়টি নিয়ে সংসদে একই ধরনের আলোচনা হয়। ওই দিন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করলে তারা যেভাবে চেয়েছে সেভাবে সভাপতি দিতে তারা রাজি আছেন। জিয়াউর রহমান বিরোধী দলকে পাবলিক কমিটির সভাপতি করলেও আর কখনো বিরোধী দল থেকে কোনো কমিটির সভাপতি করা হয়নি বলেও দাবি করেন চিফ হুইপ।
সেদিনও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যুক্ত না হওয়ার নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, তাদের প্রিন্সিপাল ডিসিশন হচ্ছে সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবেন না। একটি কমিটিতে যুক্ত করানোর শর্তারোপ করে জোর জবরদস্তির ট্র্যাডিশন ঠিক নয়।
ওই দিনের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু তারা নিতে রাজি হননি। চিফ হুইপের সঙ্গে একমত পোষণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চিফ হুইপের প্রস্তাব মেনে নেওয়া হলে কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব পাওয়া যাবে।
এদিকে, অতীতে বিরোধী দলকে সভাপতি করার রেওয়াজ নেই বলে সরকারি দলের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। বর্তমান সরকারি দলের সদস্য ও হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানকে নবম জাতীয় সংসদে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। এছাড়া দশম, একাদশ জাতীয় সংসদেও তৎকালীন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির একাধিক সংসদ সদস্যকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়।
উল্লেখ্য, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সংখ্যা ৫০টি। এর মধ্যে ৩৯টি কমিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদ সম্পর্কিত। গতকালের একটিসহ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ২০টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে গত দুটি অধিবেশনে সংসদ সম্পর্কিত ১১টি কমিটির ছয়টি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। এছাড়া পদাধিকার বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কার্যউপদেষ্টা এবং বিশেষ অধিকার কমিটি, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল লাইব্রেরি কমিটি, হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদ কমিটি এবং সরকার দলের এমপি মো. শাহজাহান বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হয়েছেন।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের সভাপতি দেওয়ার কথা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদে আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, সরকারি দল বিরোধী দলকে আনুপাতিক হারে সভাপতি দেওয়ার কথা বলে তাদের থেকে নামের তালিকাও নিয়েছে। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।
সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির ক্ষেত্রে সংবিধান বা বিধি কোনোটারই সংশোধনের দরকার নেই। অতীতেও বিরোধী দল থেকে সভাপতি পদ দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও বিরোধী দলে থাকতে সভাপতির পদ পেয়েছে।
ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব গ্রহণ না করার প্রশ্নে তিনি বলেন, ডেপুটি স্পিকারের পদটি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই আমরা ওই প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। কমিটিতে সভাপতি পদ দেওয়া না হলে সংসদ বর্জন করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয়ভাবে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
দলটির আরেক সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে যুক্ত হব না। কিন্তু এর সঙ্গে সংসদীয় কমিটির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কোনো শর্ত মেনে সভাপতির পদ যাচ্ছি না।
এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আমার দেশকে বলেন, আমরা আমাদের তরফ থেকে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। একটি বোঝাপড়া হয়েছিল বলেই আমি সংসদীয় কমিটি গঠন থেকে বিরত থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে যে কথা হয়েছিল সংসদের বক্তব্যে তার প্রতিফলন দেখতে পাইনি। আমরা চেয়েছি তারা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন। এটা হলে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সভাপতির পদ দিতে আমাদের আপত্তি নেই।
সংবিধান সংশোধন না হলে দেশ-জাতি সবার জন্যই ক্ষতি হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা বলছি না তাদের সভাপতির পদ দেওয়া হবে না। তাদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে। তারা চাইলে গঠন করা কমিটিও পুনর্গঠন করে তাদের সভাপতি পদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতি দেওয়ার প্রস্তাব সরকারি দলের উদারতা দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, বিরোধী দলকে সভাপতি দেওয়ার বিষয়ে সংবিধান, কার্যপ্রণালি বিধি বা রেওয়াজ নেই। তারপরও আমরা তাদের এটা দিতে চেয়েছি। তারা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে আমরা সেটা বিবেচনা করব।
তিনি বিরোধী দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে রেষারেষি চলতে থাকলে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেটা কারো জন্যই সুখকর হবে না।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গতকালও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে বাহাস হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অতীতেও বিরোধী দল থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির রয়েছে। অন্যদিকে সালাহউদ্দিন বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল অংশ নিলে আসনের অনুপাতে কমিটির সভাপতির পদও পাবে।
আগের দিনের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির নেই বলে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে নবম জাতীয় সংসদের উদাহরণ তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সেখানে কিন্তু বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। আবার সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী সংসদীয় কমিটিতেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হওয়া উচিত।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব ইতোমধ্যে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে দেওয়া হয়েছে। এরপর জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে আসনের অনুপাতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে।
বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা শুভ সূচনা করুন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে অংশ নিন। যা বক্তব্য আছে, সেখানে দিন। বিরোধী দল বাইরে যে রাজনৈতিক অবস্থানই নিক, সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য সবাইকে একসঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।