বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লোগো বদলানোর উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক লোগো দরকার। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কোটি মানুষের আবেগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রতীক বদলানোর প্রয়োজন কতটা।
বিটিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গতকাল রোববার রাতে প্রকাশিত একটি ভিডিও বিজ্ঞাপন থেকেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি।’ বিটিভির লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে সবাইকে। আগ্রহীদের নিজেদের ধারণা অথবা লোগো নকশা পাঠাতে বলা হয়েছে। এর জন্য দেওয়া হয়েছে বিটিভির ই-মেইল ঠিকানা। নকশা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
বিটিভির এই উদ্যোগ সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, নতুন লোগোতে কতটা থাকবে পুরোনোটির ঐতিহ্য? থাকবে কি মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক লাল সূর্য ও সবুজ বেষ্টনী? বরেণ্য শিল্পীদের হাতের ছোঁয়া কি থাকবে? নাকি সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রতীক সামনে আসবে?
বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন আজ সোমবার রাতে সুখবর ডটকমকে বলেন, বিটিভিকে আধুনিকায়নের চেষ্টা চলছে। অর্গানোগ্রাম, শিল্পী সম্মানী, সংবাদ পরিবেশনা থেকে শুরু করে সর্বস্তরে আধুনিকায়ন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তার ভাষায়, আধুনিকায়নের পথে যে পরিবর্তনগুলো প্রয়োজন, লোগো পরিবর্তন তারই একটি অংশ।
লোগো বদলানোর বিষয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথাও বলেছেন। তার বক্তব্য, বিটিভি তার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে চায়। বরেণ্য শিল্পীদের অবদানও সংরক্ষণ করতে চায়। মানুষ যদি লোগো পরিবর্তন না চায়, তাহলে লোগো পরিবর্তন হবে না। আর যে পরিবর্তনই আনা হোক, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই তা করা হবে।
এই বক্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ বিটিভির লোগো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারের ইতিহাস। জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ও।
বিটিভির যাত্রা স্বাধীন বাংলাদেশেরও আগে। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন ডিআইটি ভবনে, বর্তমানে যা রাজউক ভবন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে টেলিভিশনটির যাত্রা শুরু হয়। তখন এর নাম বিটিভি ছিল না। এটি ছিল পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশনের একটি শাখা।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে চ্যানেলটিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রূপান্তর করা হয়। নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি।
স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের লোগোটি নকশা করেন শিল্পী ইমদাদ হোসেন। এই নকশায় ভূমিকা ছিল বরেণ্য শিল্পী কামরুল হাসান, মুস্তাফা মনোয়ার এবং আর্ট ডিজাইনার মহিউদ্দিন ফারুকেরও।
লোগোটির নকশায় ছিল সবুজ ফ্রেমের মধ্যে টেলিভিশনের পর্দা। সেই পর্দায় উদীয়মান লাল সূর্য। যেন স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সূর্য সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছে। লাল-সবুজের এই প্রতীক খুব দ্রুত মানুষের মনে জায়গা করে নেয়।
বিটিভির সাবেক পরিচালক খ ম হারুনও লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, হঠাৎ করে নতুন লোগোর বিজ্ঞপ্তি তার চোখে পড়েছে। তার মতে, বিটিভির স্বর্ণালী সময়ের একটি আবেগ এখনো টিকে আছে। সেটি বিটিভির লোগো।
খ ম হারুনের বক্তব্য, লোগোটিকে আরও আকর্ষণীয় করা যেতে পারে। কিন্তু ঐতিহাসিক লোগোটিকে টিকিয়ে রেখেই তা করা উচিত। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান লোগোটিতে শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ারের হাতের স্পর্শ রয়েছে। শিল্পী ইমদাদ হোসেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বিটিভির লোগো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। পরে ১৯৮০ সালে বিটিভি রঙিন যুগে প্রবেশ করলে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আগের লোগোটিকে নতুনভাবে অঙ্কন করেন।
অর্থাৎ একটি লোগোর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের ইতিহাস। রয়েছে একাধিক বরেণ্য শিল্পীর সৃষ্টিশীলতা। রয়েছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারের বিবর্তনের স্মৃতি।
খ ম হারুন তাই লোগো বদলের আগে বিটিভির অন্য সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। তার তালিকায় রয়েছে বিটিভির অনুষ্ঠানে বৈচিত্র ফিরিয়ে আনা, মেধাবী মানুষদের দিয়ে নতুন নতুন অনুষ্ঠান ও কনটেন্ট তৈরি, তথাকথিত অডিশন প্রথা বাতিল করে গুণী শিল্পীদের আলাদা তালিকা তৈরি, ত্রৈমাসিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনা এবং তার ভিত্তিতে টিভি গাইড আবার প্রকাশ করা।
তিনি বিটিভির সব চ্যানেলের শূন্য পদ পূরণ, সব স্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং শিল্পী সম্মানী কাঠামো যুগোপযোগী করার কথাও বলেছেন।
এ ছাড়া টেলিভিশন সংযোগ ও টেলিভিশন সেটের ওপর আরোপিত লাইসেন্স ফির যথাযথ হিসাব রাখা এবং পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্য অনেক দেশের মতো বিজ্ঞাপনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিটিভির ওয়েবসাইট আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন।
খ ম হারুনের মতে, বিটিভি এনালগ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিদিন আধুনিক হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রচারকর্মীদের সেই অনুযায়ী প্রস্তুত করা যায়নি। এটিকে তিনি ব্যর্থতা হিসেবে দেখেছেন।
লোগো পরিবর্তনের বিতর্কটি অবশ্য শুধু নকশা বা নান্দনিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও প্রতীক নিয়ে দেশে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও নতুন করে সামনে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলার তথ্য উঠে আসে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে ৫ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৫৯টি জেলায় ১ হাজার ৪৯৪টি ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলার তথ্য পাওয়া যায়। এসবের বড় অংশ ছিল বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক।
মেহেরপুরের মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রের চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের মাথা ভেঙে ফেলা হয়। তাজউদ্দীন আহমদের ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের গার্ড অব অনারের দৃশ্য তুলে ধরা ভাস্কর্যগুলোও ভাঙচুর করা হয়। দেশের মানচিত্রের ওপর মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের আদলে তৈরি ছোট ভাস্কর্যগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এরপরও অনেক ভাস্কর্য সংস্কার হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, মুজিবনগরসহ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত ভাঙা ভাস্কর্য ও স্থাপনাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই আগের অবস্থায় পড়ে আছে।
নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নির্মিত তিনটি ভাস্কর্য ভাঙচুরের দেড় বছর পরও সংস্কার করা হয়নি। একটি ভাস্কর্যের জায়গায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতারা বসছেন। স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ গবেষকেরা বলেছেন, এসব স্মৃতিচিহ্ন না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এসব কারণে বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগকে অনেকে বৃহত্তর একটি প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তাদের প্রশ্ন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যখন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের লোগোতে থাকা মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকও কি পরিবর্তনের মুখে পড়ছে?
আরও একটি প্রশ্ন উঠছে। লোগো পরিবর্তনের পেছনে কি এমন কোনো পরামর্শ রয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো গোষ্ঠী বা তাদের প্রতিনিধিদের মতামত দ্বারা প্রভাবিত?
কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট নাসির আহমেদও লোগো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, হঠাৎ লোগো পরিবর্তনের কী প্রয়োজন পড়ল? তার মতে, এই লোগোর বড় ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক লাল সূর্য এবং চারপাশে জাতীয় পতাকার আদলে সবুজ বেষ্টনী রয়েছে এতে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই কিংবদন্তি শিল্পীর হাতের ছোঁয়া রয়েছে লোগোটিতে।
নাসির আহমেদের মতে, পরিবর্তন করা দরকার বিটিভির অন্য জায়গায়। তার ভাষায়, বিটিভিকে সরকারি প্রচারযন্ত্রের শৃঙ্খল থেকে সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসিত ও গণমুখী প্রতিষ্ঠানে উত্তরণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিটিভির অনুষ্ঠানমালার মান নিয়ে মানুষ প্রশ্ন করছে। বেসরকারি চ্যানেলগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভালো অনুষ্ঠান এবং উন্নত মানের সংবাদ পরিবেশন করতে পারলে বিটিভি কেন বিপুল অর্থ ব্যয় করেও তা পারবে না?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একটি পক্ষ আধুনিকায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছে। অন্য পক্ষ বলছে, আধুনিকায়ন মানেই ঐতিহাসিক প্রতীক মুছে ফেলা নয়। কেউ কেউ বলছেন, লোগোর নকশায় সামান্য পরিবর্তন আনা যেতে পারে, কিন্তু মূল প্রতীক ও শিল্পীদের সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকার অক্ষুণ্ন রাখা দরকার।
এই বিতর্কের একটি মৌলিক জায়গা আছে। রাষ্ট্র বদলায়। সরকার বদলায়। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হয়। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাস বদলায় না। ইতিহাসের সঙ্গে রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ও জড়িয়ে থাকে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ সেই রাষ্ট্রীয় আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধারণ করা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি হওয়ার কথা নয়। এটি রাষ্ট্রের ইতিহাস। নতুন প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রের।
বিটিভির লোগো তাই শুধু একটি নকশা নয়। এটি কয়েক দশকের সম্প্রচার ইতিহাসের অংশ। এর মধ্যে আছে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারের প্রথম যুগের স্মৃতি। আছে কামরুল হাসান, মুস্তাফা মনোয়ার ও ইমদাদ হোসেনের মতো শিল্পীদের সৃষ্টিশীলতার ছাপ। আছে লাল সূর্য ও সবুজের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিচয়।
আধুনিকায়ন প্রয়োজন। বিটিভির অনুষ্ঠান, সংবাদ, প্রযুক্তি, জনবল, ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু পরিবর্তনের সঙ্গে স্মৃতি মুছে ফেলার পার্থক্যটিও স্পষ্ট থাকা দরকার।
বিটিভি বলছে, মানুষ না চাইলে লোগো পরিবর্তন করা হবে না। এই বক্তব্য এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু একটি লোগোর নয়। প্রশ্নটি হলো, আধুনিক বাংলাদেশ তার পুরোনো স্মৃতি নিয়ে সামনে যাবে, নাকি আধুনিকতার নামে কিছু স্মৃতি পিছনে ফেলে যাবে।
বিটিভির নতুন লোগো কেমন হবে, তা এখনো জানা যায়নি। ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নকশা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটিও পরিষ্কার নয়।
তবে বিতর্ক ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে একটি লোগো নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিচয়ের প্রশ্নই সামনে এসেছে।