Image description

মেঘনা গ্রুপসহ একাধিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির মালিকানাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যম নাগরিক প্রতিদিনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র মারফত জানানো হয়েছে।

নাগরিক মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৩০ আগস্ট এ পত্র জারি করা হয়। মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সুমন কুমার দে স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়েছে, ৩১ আগস্ট (সোমবার) থেকে নাগরিক প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

প্রতিষ্ঠানের সার্বিক আর্থিক, প্রশাসনিক ও কার্যক্রমগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নাগরিক প্রতিদিনের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দায়িত্বে থাকা সব নথি, ফাইল, অফিসিয়াল সম্পদ, পরিচয়পত্র, ছবি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অন্যান্য দায়িত্ব ও সম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা এলেও কর্মীদের অন্তত ২ মাসের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা এখনো পরিশোধ হয়নি। কার্যক্রম বন্ধের নোটিশে কর্মীদের বকেয়া বেতন, পাওনা ও চাকরি-সংক্রান্ত অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিশোধের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করলে গ্র্যাচুইটি এবং কম্পেনসেশন ও অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া কথা থাকলেও সে বিষয়ে সংবাদকর্মীদের কিছু জানায়নি মালিকপক্ষ। এতে চাকরি হারানোর পাশাপাশি চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীরা।

পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান টিটো এবং প্রকাশক জেবুন নেসা।

এ বিষয়ে নাগরিক প্রতিদিনের একজন সংবাদকর্মী নাম গোপন রাখার শর্তে বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, `আমাদের দুই মাসের বকেয়া। বিভিন্ন সেকশনে আমরা এখানে ৫০ জনের ওপরে চাকরি করছি। আগস্ট এবং চলতি মাস সেপ্টেম্বরের বেতন বকেয়া। কোনো প্রকার পূর্বনোটিশ ছাড়াই আজ অফিসে আসার পর আমাদের জানানো হয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বকেয়া পাওনা এবং টার্মিনেশন বেনিফিট/ক্ষতিপূরণ কবে কীভাবে দেবে, তাও স্পষ্ট করে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। বাসা ভাড়া দিতে পারছি না। এই অবস্থায় আমরা মালিক পক্ষেরও কাউকে পাইনি কথা বলার জন্য।'

 

 

এদিকে নাগরিক প্রতিদিনের কার্যক্রম বন্ধ করা হলেও মেঘনা গ্রুপ সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম খাতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে। গ্রুপটির মালিকানায় আগে থেকেই ছিল একাত্তর টেলিভিশন। পরে ২০২৫ সালে একইসঙ্গে প্রিন্ট গণমাধ্যম দৈনিক আগামীর সময় ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম নাগরিক প্রতিদিন বাজারে আনে। এর পাশাপাশি অতি সম্প্রতি নিউ এজের মালিকানাও নিয়েছে মেঘনা গ্রুপ। জানা গেছে, আনন্দবাজার নামেও একটি পত্রিকার মালিকানা নিয়েছে মেঘনা গ্রুপ।

এমতাবস্থায় একটি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বকেয়া রেখে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং একই সময়ে আরেকটি গণমাধ্যমের মালিকানা অর্জন ও নতুন বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

এ বিষয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, বিষয়টি আমরা আজকে জেনেছি। মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে সব বেতন বকেয়া ও টার্মিনেশন বেনিফিট দেওয়া হবে। পত্রিকার সম্পাদক এবং মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সাংবাদিকদের দাবি-দাওয়া আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বেঙ্গল লেন্সকে বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের অধিকার লঙ্ঘিত হলে সে অধিকার আদায়ে কাজ করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। সংবাদকর্মীদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ লড়াই করে থাকি আমরা। নাগরিক প্রতিদিন শ্রম আইন অনুযায়ী লে-অফ না করে থাকলে সংবাদকর্মীদের পাওনা-দেনা মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত করা হবে। মালিকপক্ষ সংবাদকর্মীদের পাওনা সঠিকভাবে আইন অনুযায়ী বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।

নাগরিক প্রতিদিনের কর্মীদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা কবে পরিশোধ করা হবে তা জানতে সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টিটোকে একাধিকবার যোগাযোগ করলে প্রতিবারই ব্যস্ততার কথা বলে পরবর্তীতে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

২০২৫ সালে মেঘনা গ্রুপের মালিক মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিরপাশাপাশি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।

২৭ মে ২০২৫ তারিখে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ব্যাংক থেকে সিএসআর তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল আদালত। তবে এসব কাটিয়ে সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করার জন্য গণমাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে।