Image description

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাঁদের আমানতের আসল পুরো অর্থ তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা পাবেন না। এই সুবিধা নিলে পরবর্তীতে আমানতকারীরা মুনাফার কোনো অর্থ দাবি করতেও পারবেন না। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কোনো অ-প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী তাঁর চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের স্থিতি এবং মেয়াদি হিসাবের শুধু আসল অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তা পরিশোধ করবে। মেয়াদি আমানতের ক্ষেত্রে মুনাফা বা অন্যান্য অতিরিক্ত অর্থ এর আওতায় পড়বে না। তবে আমানতকারী এই উত্তোলন সুবিধা গ্রহণ করলে তা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ওই আমানতকারীর পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি (ফুল অ্যান্ড ফাইনাল সেটেলমেন্ট) হিসেবে বিবেচিত হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিপরীতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা যাবে না। এ ছাড়া আমানতের অর্থ পরিশোধের আগে ব্যাংকগুলোর যেকোনো একটিতে ওই আমানতকারীর কোনো দায় থাকলে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করতে হবে।

এদিকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকেরা তাদের হিসাবের জমানো সম্পূর্ণ মূল অর্থ (প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট) এককালীন তুলতে বা নগদায়ন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তারা কোনো মুনাফা পাবেন না। এ জন্য মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকটির শাখাগুলোতে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনায় জানানো হয়, ব্যাংকের আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন মেয়াদি হিসাব—যেমন এমটিডিআর ও ডিপিএস—থেকে গ্রাহকেরা তাদের জমানো মূল টাকা তুলে নিতে পারবেন। তবে যেসব গ্রাহক হিসাব বন্ধ না করে চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী পূর্বনির্ধারিত হারে যথারীতি মুনাফা পেতে থাকবেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালু হলে মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুযোগ পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়া হবে।