Image description
​জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি ও বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়েছেন। ঘন ঘন শুনানির তারিখ পড়ায় আইনজীবীর ফি পরিশোধ করতে পারছেন না উল্লেখ করে শুনানির তারিখ কিছুটা দীর্ঘ বিরতিতে দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান তিনি।
 
​বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে শুনানিকালে এ ঘটনা ঘটে। এদিন রেদোয়ানুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম সাক্ষীকে জেরা করছিলেন।
 
​একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলেন রেদোয়ানুল ইসলাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঘন ঘন তারিখ দিলে আমার খুব সমস্যা হয়, আইনজীবীর টাকা দিতে পারি না। আমার আর্থিকভাবে তেমন কোনো সঞ্চয়ও নেই। একটু লম্বা বিরতি দিয়ে তারিখ দিলে ভালো হয়।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে বেতন পাই, তা খুবই সামান্য। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর খরচ দেব?’
 
​এ সময় বিচারক বিষয়টি নিয়ে রেদোয়ানুলের আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, তার কাছ থেকে রিজনেবল ফি-ই নেয়া হচ্ছে।
 
​অন্যদিকে প্রসিকিউটর তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামির মূল চাওয়া ঘন ঘন তারিখ পেছানো নয়, বরং মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া। অল্প দিনের ব্যবধানে শুনানি হলে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
 
জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়াও বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম গ্রেপ্তার হয়ে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। এ মামলার অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক।