Image description

নওগাঁয় একটি মাদ্রাসার ১২ শিক্ষার্থী এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন—সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, নওগাঁয় বর্তমানে এইচআইভি পজিটিভ রোগী রয়েছেন মাত্র দুজন। তাদের দুজনই ২০২৫ সালে শনাক্ত হয়েছেন। ২০২৬ সালে নতুন করে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে এশিয়া পোস্টকে এসব তথ্য জানান নওগাঁ সিভিল সার্জন মো. আমিনুল ইসলাম।

 

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল দাবি করেন, তার জেলায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের সবাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং তারা হোস্টেলে থাকেন বলেও ওই অনুষ্ঠানে দাবি করেন তিনি।

 

তবে সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম বলেন, নওগাঁয় ১২ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী এইচআইভি পজিটিভ—এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তাদের সবার এইচআইভি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।

 

সিভিল সার্জন জানান, ওই ১২ শিক্ষার্থী রক্ত দিতে এসেছিলেন। রক্তদাতাদের নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাদের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সবার ফল নেগেটিভ এসেছে। ফলে তাদের এইচআইভি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই এবং তারা অন্যকে রক্ত দিতে পারবেন।

 

জেলায় এইচআইভি পরিস্থিতি সম্পর্কে সিভিল সার্জন বলেন, বর্তমানে দুজন এইচআইভি পজিটিভ রোগী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। তারা ভালো আছেন। ২০২৫ সালে ওই দুজন শনাক্ত হন। এরপর ২০২৬ সালে নতুন করে আর কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

 

এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, রক্ত নেওয়ার আগে রক্তের প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষা যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এ ছাড়া একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই অনিরাপদ যৌন আচরণ ও মাদক গ্রহণের ক্ষেত্রে একই সুচ ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এইচআইভির বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।