Image description

পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশপ্রযুক্তিতে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে চীন। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ঝুকে-৩’ রকেটের প্রথম পর্যায়টি সফল উৎক্ষেপণের পর মাটিতে অবতরণ ও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

 

বেইজিং ভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা স্টার্টআপ ল্যান্ডস্পেস-এর নির্মিত রকেটটি উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং বাণিজ্যিক মহাকাশ উদ্ভাবন কেন্দ্র থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

 

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া একে পুনব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানের ক্ষেত্রে ভারতের মহাকাশ প্রতিযোগিতার অন্যতম এক বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

 

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, মরুভূমির নির্ধারিত অবতরণস্থলে নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে রকেটের ফার্স্ট স্টেজ বা বুস্টারটি তার চারপাশের পাগুলো খুলে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাটিতে নেমে আসে। এর ওপর থাকা রকেটের দ্বিতীয় পর্যায়টি সফলভাবে ‘হংহু-০৩’ উপগ্রহটিকে মহাকাশের কক্ষপথে স্থাপন করেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান যারা অরবিটাল-শ্রেণির বুস্টারকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ‘নিজের পায়ে’ মাটি স্পর্শ করিয়ে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হলো।

 

 

অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতিঃপদার্থবিদ রিচার্ড ডি গ্রিজ এই সফলতাকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন।

 

মাত্র এক মাস আগে গত জুলাইয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘লং মার্চ-১০বি’ ক্যারিয়ার রকেটের প্রথম পর্যায় সমুদ্রের ভাসমান প্ল্যাটফর্ম থেকে সফলভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল।

 

একের পর এক এই প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিযোগিতা চীনকে সস্তা ও ঘন ঘন উৎক্ষেপণ ক্ষমতার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে, যা মূলত বিশ্বজুড়ে তাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কৌশলকে ত্বরান্বিত করবে।

 

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বেইজিং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজ দেশের বাণিজ্যিক ও সরকারি মহাকাশখাতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

 

চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন (সিএনএসএ) অনুমোদিত এই ‘ঝুকে-৩’ যানটি মূলত অত্যন্ত কম খরচে, উচ্চ ধারণক্ষমতা নিয়ে স্বল্প বিরতিতে ঘন ঘন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের উপযোগী করেই তৈরি করা হয়েছে।