ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। একজনকে আটকও করা হয়েছে। মারধর করতে দেখা গেছে কয়েকজনকে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ৩২ নম্বর এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
এদিকে সেখানে রাষ্ট্রফোরাম সংলাপ (এডিএফ) নামে একটি সংগঠনের সদস্য সচিব পরিচয় দেওয়া আনম আয়াশ নামে একজনকে দেখা যায়। তাদের সংগঠনের কয়েকজন এখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও তাদের দোসরদের প্রতিহত করতে এসেছেন বলে দাবি করেন। তিনি ও তার সংগঠনের লোকজনদেরকে কয়েকজনকে মারধর করতেও দেখা গেছে।
এ ছাড়া ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে অনেককেই প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তাদের কেউ কেউ হতাশাও প্রকাশ করেন।
আনম আয়াশ নামের ওই ব্যক্তিকে এক সাংবাদিক এখানে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে এসেছেন। শুধু এখানে নয়, ঢাকার অন্য স্থানেও তাদের লোকজন অবস্থান নিয়েছেন বলেও দাবি করেন।
কথা এগোতেই নিজেকে গুছিয়ে বলেন, আমরা এখানে পুলিশকে সহায়তা করতে এসেছি। কোথাও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেখলে পুলিশকে দেখাবো।
তিনি দাবি করেন, এখানে যারা আসবে তারা হয় আওয়ামী লীগ, না হয় তাদের দোসর। মুজিবের কর্মী ছাড়া এখানে কেউ আসবে না।
নিজেকে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৈনিক হিসেবেও দাবি করেন। সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তাহলে ফ্যাসিস্ট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৈনিক চিহ্নিতের পদ্ধতিটা একটু বলে দেবেন? আপনারওতো আইডি কার্ড নাই আমরা বুঝবো কীভাবে? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে ব্যানার থাকবে। তাদের হাতে আজ ফুল থাকবে। আর গণঅভ্যুত্থানের সৈনিক হিসেবে আমাকে অনেকেই চেনে।
বাড়িটির প্রবেশের রাস্তার দুই মুখে অনেককেই অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ভেতরে যাওয়ার ইচ্ছে আছে কি না- তাদেরকে জিজ্ঞাসা করতেই এক বাক্যে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। কেউ ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখতে যেতে চান। কেউ বঙ্গবন্ধুর বাড়িটি দেখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে চান।
সেখানে অপেক্ষমাণ একজন বলেন, যেতে তো চাই, যেতে পারবো না। আসছি দেখতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। এই দিনে কেন এলেন প্রশ্ন করতেই বলেন, কেন আসবো না? স্বাধীনতার বীজ যেখান থেকে বপন হয়েছে, সেই বাড়িটা কেন দেখতে পারবো না? দেখতে দিচ্ছেন না ঠিক আছে, এটা দেখাটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।
এদিকে নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলেও তারা সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ফুল দেওয়া নিষিদ্ধ কি না জানতে চাইলেও কোনও পুলিশ কর্মকর্তা জবাব দেননি। এমনকি শেখ মুজিবের ভাঙা বাড়ির দিকে কোনও কোনও সাংবাদিক প্রবেশ করতে চাইলেও তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়।



